মহাভারতের শিখণ্ডী-ভীষ্ম রূপক: আন্দোলন, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক কৌশলের এক চিরন্তন পাঠ
এডভোকেট সুশান্ত অধিকারী
সাধারণ সম্পাদক, সনাতনী অধিকার আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি
কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট
প্রতিনিধি, ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ।
সবুজ দত্ত,
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত:
২৫ জুন ২০২৬, ১৩:২৯
47 জন পড়েছেন
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পিতামহ ভীষ্ম ছিলেন অপরাজেয়। কিন্তু তাঁর একটি কঠিন প্রতিজ্ঞা ছিল—তিনি কোনো নারী বা যিনি পূর্বে নারী ছিলেন (যেমন শিখণ্ডী), তাঁর বিরুদ্ধে কখনো অস্ত্র ধরবেন না। অর্জুন এবং শ্রীকৃষ্ণ ভীষ্মের এই নীতিগত দুর্বলতাকে চমৎকারভাবে কাজে লাগালেন। তারা শিখণ্ডীকে রথের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
ভীষ্ম তাঁর নৈতিক অবস্থানের কারণে অস্ত্র নামিয়ে নিলেন, আর সেই সুযোগে পিছন থেকে অর্জুন অবিরাম তীর ছুঁড়ে পিতামহ ভীষ্মকে পরাস্ত করলেন।
এখানে শিখণ্ডী কিন্তু যুদ্ধ জয়ের মূল নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কেবল একটি "নৈতিক ঢাল"। আসল লক্ষ্যভেদ করেছিলেন অর্জুন, আর এর যাবতীয় রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছিল পাণ্ডব পক্ষ।
১. মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক: যখন আদর্শ মুখোমুখি হয় ব্যবহারিক রাজনীতির
যখন একজন সাধারণ মানুষ বা নিবেদিতপ্রাণ আন্দোলনকারী নিজেকে এই রূপকের জায়গায় দাঁড় করান, তখন বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নির্মম হয়ে ওঠে:
আদর্শ বনাম ক্ষমতার রাজনীতি:
আপনি বা আপনার মতো সাধারণ মানুষ যখন কোনো অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামেন, তখন আপনাদের সামনে থাকে নিঃস্বার্থ আবেগ, ন্যায়ের তাগিদ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু যখন বুঝতে পারেন যে, এই পবিত্র আবেগকে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা কেউ নিজেদের স্বার্থে "ঢাল" হিসেবে ব্যবহার করছে, তখন তীব্র একাকীত্ব ও প্রতারণার এক গভীর ক্ষত তৈরি হয়।
ইতিহাস সাক্ষী, যেকোনো বড় সংকটে সরলমনা ও অধিকারবঞ্চিত মানুষগুলোই বুক চিতিয়ে সবার সামনে লড়াই করে। কিন্তু পর্দার আড়ালের চালকেরা যখন সেই ত্যাগকে সিঁড়ি বানিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করে ফেলে, তখন সামনের সারির প্রকৃত যোদ্ধারা কেবলই একটা সংখ্যা বা দাবার ঘুঁটিতে পরিণত হন।
মূল সত্য: ক্ষমতার লড়াইয়ে নীতি যেখানে গৌণ, সেখানে আদর্শবাদী মানুষেরা প্রায়শই "শিখণ্ডী"র মতো ব্যবহৃত হন। তাঁদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখে লাভবান হয় তৃতীয় কোনো পক্ষ, আর মূল যোদ্ধারা দিনশেষে রয়ে যান উপেক্ষিত।