ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন করছে পশ্চিমবঙ্গ, জমি কেনাবেচাতেও বিধিনিষেধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১২ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৪
61 জন পড়েছেন
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পর এবার ধর্মান্তর ঠেকানো এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর বন্ধে কঠোর আইন করার পাশাপাশি জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নতুন আইনি বিধিনিষেধ আনা হবে। তবে এসব বিধিনিষেধের আওতায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি কেনাবেচার বিষয়টি সরাসরি পড়বে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম বড় আদর্শিক আইন হিসেবে প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) সামনে আসার পর এবার ধর্মান্তর এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন আইনি উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের এক পর্যালোচনা সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি বলেন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকাতে তার সরকার শিগগিরই কঠোর আইন করবে। পাশাপাশি জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নতুন ‘আইনি বিধিনিষেধ’ আনা হবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই ইউসিসি আনব—এক দেশ, এক আইন। এরপর আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন করা এবং জমি কেনাবেচায় নতুন আইনি বিধিনিষেধ আনা।’
পশ্চিমবঙ্গের সব মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করল শুভেন্দু সরকার
ধর্মান্তর এবং বিজেপির ভাষায় ‘ল্যান্ড জিহাদ’—এই দুটি বিষয় দীর্ঘদিন ধরে দলটির রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম অংশ। তবে প্রস্তাবিত ভূমি আইনে ঠিক কী ধরনের বিধিনিষেধ থাকবে, তা স্পষ্ট করেননি শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচায় এতে কোনো বাধা থাকবে কি না, সেটিও তিনি জানাননি।
তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিজেপিশাসিত অন্যান্য রাজ্যের ভূমি আইন নিয়ে তুলনা শুরু হয়েছে। এসব রাজ্যে সংরক্ষিত জনগোষ্ঠী ও নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু জমি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জমি নিয়ে এই উদ্যোগের সঙ্গে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অভিবাসন এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিজেপির বৃহত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে বিজেপি দাবি করে আসছে, অনুপ্রবেশের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জনসংখ্যার চিত্র বদলে যাচ্ছে। একইসঙ্গে স্থানীয় মানুষ ‘বহিরাগতদের’ কাছে জমি হারাচ্ছেন বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে দলটি। এখন ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেস সরকার নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় সেই রাজনৈতিক বক্তব্যই নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে চলে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের সভায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূমসহ বিভিন্ন জেলার সংসদ সদস্য, বিধায়ক, মন্ত্রিসভার সদস্য, জেলা প্রশাসক এবং প্রায় ৭৫ জন বিডিও উপস্থিত ছিলেন। সভায় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহল অঞ্চলের দরিদ্র মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এসব সংগঠন অবৈধ ধর্মান্তর এবং ‘মৌলবাদী’ কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে, ‘অবৈধ’ ওবিসি তালিকা বাতিল করা হয়েছে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে এবং মহররমের সময় তলোয়ার বহন ঠেকানো হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দুটি কাজ এখনও বাকি—ধর্মান্তর নিয়ে একটি আইন এবং জমি কেনাবেচা নিয়ে আরেকটি আইন। আমি দুটিই করছি।’