পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু নারী শিক্ষার্থীকে মুসলিম শিক্ষার্থীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪২
582 জন পড়েছেন
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ডিন অফিসের একটি কক্ষে দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ ওঠা দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ হিরণ ও রিতু সরকার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একাডেমিক ভবন-৩ এর ডিন অফিসে অনেক দিন ধরে অব্যবহৃত একটা কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়েব জানান, ওই সময় আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবন-৩-এর নিচতলায় স্টুডিওর কাজ করছিলেন। এ সময় তারা এক ছাত্র ও এক ছাত্রীকে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের খুঁজতে ভবনের ওপরের তলায় যান।
শোয়েব ও তার বন্ধুদের দাবি, ষষ্ঠ তলার ডিন অফিস এলাকার একটি কক্ষের ভেতর থেকে তারা আপত্তিকর শব্দ শুনতে পান। পরে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেন এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে কক্ষের ভেতরে থাকা দুই শিক্ষার্থী নিজেদের পরিচয় দেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফয়সাল আহমেদ হিরণের কয়েকজন বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বলে জানা গেছে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে ওই দুই শিক্ষার্থীকে সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ হিরণ। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে সেখানে যাইনি। একাডেমিক কাজের জন্য ল্যাপটপ নিয়ে ডিন অফিসের নিরিবিলি একটি কক্ষে বসে কাজ করছিলাম। এ সময় শোয়েব, ফয়সাল, রাসেলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে কক্ষটি বাইরে থেকে আটকে দেন। পরে তারা আমাকে জোর করে ভিডিওতে নির্দিষ্ট কথা বলতে বাধ্য করেন এবং মারধর করেন। একপর্যায়ে তারা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া আমার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যান।’
তবে ফয়সাল আহমেদ হিরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষার্থী শোয়েব। তিনি বলেন, ‘সেখানে তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা দাবি করা হয়নি। ফোনটি আমি নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়েছিলাম, যা আমার ভুল ছিল। তবে তার কোনো ল্যাপটপ নেওয়া হয়নি। তাদের আপত্তিকর থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ আছে।’
তবে ফয়সাল আহমেদ হিরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষার্থী শোয়েব।