রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের প্রধান এবং বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি এই সংকটকালীন সময়ে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, হামে আক্রান্ত হলে শিশুর শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘ইমিউনিটি’ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে শিশুকে সহজে হজম হয় এমন পুষ্টিকর ও সাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন খাবার দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদ নিশির মতে, শিশুকে উষ্ণ গরম স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। স্যুপের গুণাগুণ বাড়াতে এতে অল্প পরিমাণে মাংস বা ডিমের সাদা অংশ মেশানো যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তাতে কোনো উগ্র মশলার আধিক্য না থাকে।
অসুস্থতার সময় শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে অভিভাবকদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় শিশু খেতে না চাইলে মায়েরা ভালোবেসে বা আদর করে চিপস কিংবা কৃত্রিম প্রক্রিয়াজাত খাবার হাতে তুলে দেন। এই অভ্যাসটি শিশুর আরোগ্যের পথে বড় বাধা হতে পারে। প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার অসুস্থ শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাই হামে আক্রান্ত শিশুকে এ ধরনের খাবার থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি, অসুস্থ অবস্থায় শরীরকে চনমনে রাখতে অনেকে চা বা কফি পানের পক্ষপাতী হলেও হামের ক্ষেত্রে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। চা-কফি পানের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা ও জটিলতা বাড়তে পারে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান উভয় মতেই অসুস্থতার সময় তরল খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য ডাবের পানিকে শ্রেষ্ঠ পথ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বাড়িতে তৈরি টাটকা ফলের রস বা জুস দেওয়া যেতে পারে। তবে বাজারের কেনা রাসায়নিকযুক্ত জুস পরিহার করে ঘরেই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তা তৈরি করতে হবে। যেহেতু এই সময়ে শরীরে ক্যালোরির চাহিদা বেড়ে যায়, তাই ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলে সামান্য চিনি যোগ করে শিশুকে ফলের রস দেওয়া যেতে পারে।
শিশুদের খাওয়ানোর কৌশলের ওপর জোর দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসুস্থতার কারণে শিশুরা একবারে বেশি খাবার গ্রহণ করতে পারে না। তাই জোর করে বেশি না খাইয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। খাবারে বৈচিত্র্য আনলে শিশু খেতে আগ্রহী হয়। যদি শিশুর হজমে সমস্যা না থাকে, তবে গাজর ও মিষ্টিকুমড়ার মতো পুষ্টিকর সবজি স্যুপ বা নরম ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া অত্যন্ত উপকারী। পরিশেষে, হামের মতো ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন বিশুদ্ধতা ও সঠিক পরিচর্যা। আতঙ্কিত না হয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং সচেতন যত্ন নিশ্চিত করলে শিশুরা দ্রুতই পুনরায় চঞ্চল ও হাসিখুশি হয়ে উঠবে।