আদিত্য ধামে জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়িতে আগমন: দিনভর ধর্মীয় আয়োজনে ভক্তদের মিলনমেলা
সৌরভ সাহা
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২২ জুলাই ২০২৬, ১৫:০৯
22 জন পড়েছেন
রাঙ্গুনিয়ায় রথযাত্রা মহোৎসবকে কেন্দ্র করে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়িতে অবস্থানের সপ্তম দিবস উপলক্ষে বুধবার (২২ জুলাই)বুধবার সাবেক রাঙ্গুনিয়া শ্রী শ্রী সমভাব আদিত্য ধাম ও শ্রীশ্রী রাধা-গোপীনাথ মন্দিরে দিনব্যাপী ব্যাপক ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ধর্মীয় আলোচনা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ভোর ৪টায় ঠাকুর জাগরণের মধ্য দিয়ে। মন্দিরের সেবাইত ও ভক্তবৃন্দ মঙ্গলধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবকে জাগরণ করান। এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব, শ্রীশ্রী রাধা-গোপীনাথ, শ্রী হনুমানজি এবং শ্রীগুরুর পূজা-অর্চনা সম্পন্ন হয়।
দুপুরে জগন্নাথ দেবের উদ্দেশ্যে রাজভোগ নিবেদন করা হয়। রাজভোগ নিবেদনের আগে ও পরে ভোগ আরতি এবং হরিনাম সংকীর্তনে অংশ নেন শত শত ভক্ত। ভক্তদের কীর্তনধ্বনি ও জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র মন্দির প্রাঙ্গণ।
রাজভোগ নিবেদনের পর প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন ভক্তের মাঝে শাকান্ন মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ ভক্তরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে প্রসাদ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় উপস্থিত ভক্তরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় হরিসভা, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা। এতে ভাগবতের রসতত্ত্ব ও ভক্তির মাহাত্ম্য তুলে ধরে আলোচনা করেন বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ ও ধর্মীয় বক্তা অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্যে ভক্তি, মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশীলন এবং শ্রীমদ্ভাগবতের শিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে গভীর সাড়া ফেলে।
দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভক্তিমূলক কীর্তন পরিবেশন করেন খিলমোগল, শান্তিনিকেতন ও মজুমদারখিল থেকে আগত কীর্তনীয়া সম্প্রদায়। তাঁদের পরিবেশিত নামসংকীর্তনে ভক্তরা নৃত্য, গানে অংশগ্রহণ করে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
রাতে কীর্তন সমাপ্তির পর উপস্থিত দুই শতাধিক ভক্তের মাঝে পুনরায় মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী ধর্মীয় আয়োজনে ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এদিনের সমগ্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করেন চন্দ্রঘোনার গুরু ভাই কেশব দাশ। এছাড়া স্থানীয় গুরু ভাই-বোন, সেবক-সেবিকা এবং অসংখ্য অনুরাগী ভক্ত স্বেচ্ছাশ্রম, আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়িতে অবস্থানকালীন প্রতিদিনই ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পূজা, আরতি, কীর্তন, ভাগবত পাঠ ও মহাপ্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আগামীকালও ভোর ৪টা থেকে যথানিয়মে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও ধর্মপ্রাণ সনাতনী জনগণকে আগামী দিনের অনুষ্ঠানসমূহে উপস্থিত থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের কৃপা লাভের পাশাপাশি ধর্মীয় আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করার আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।
জয় শ্রী রাধে। জয় জগন্নাথ।