আদালতের রায় পাওয়ার পরও রক্ষা পেল না ভোলার লালমোহনের সংখ্যালঘু রতন কৃষ্ণ দাসের পরিবার!
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২২ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩৪
46 জন পড়েছেন
ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উরন সাধু বাড়ি এলাকায় একটি সংখ্যালঘু (সনাতনী) পরিবারের ওপর হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে গেলেও সেই রায় কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গত ১৮ জুলাই সকালে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের একপর্যায়ে আদালত গোপাল কৃষ্ণ দাসের পক্ষে রায় দেন। পরিবারের সদস্যরা আশা করেছিলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়ার পর অন্তত নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। কিন্তু আদালতের রায়ের পর থেকেই তাঁদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ১৮ জুলাই সকালে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় গোপাল কৃষ্ণ দাস ও তাঁর স্ত্রী আখি রানি দাসকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারটির অভিযোগ, হামলাকারীরা শুধু স্বামী-স্ত্রীর ওপর হামলাতেই থেমে থাকেনি। তাঁদের দুই মেয়েকেও মারধর করা হয় এবং পরিবারের বৃদ্ধ বাবার ওপরও নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁকে পানিতে চুবিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এছাড়া হামলাকারীরা বসতঘরে ভাঙচুর চালায়, একটি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে এবং ঘরে থাকা প্রায় ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পর পরিবারটি জানিয়েছে, আদালতের রায় পাওয়ার পরও তাঁরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারেননি। একটি সংখ্যালঘু পরিবার আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও যদি হামলা, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলে, তবে তা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়।