হিন্দু অসহায় নারীর জমি দখল করে তার বিরুদ্ধেই মামলা হামলাকারীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৩ জুলাই ২০২৬, ১৩:০১
16 জন পড়েছেন
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু নারীকে মারধর, বাড়িঘরে হামলা এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নারীর নাম মুক্তি ভট্টাচার্য। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
মুক্তি ভট্টাচার্যের দাবি, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর আগে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ওই ঘটনায় একটি ঘর পুড়ে যায় এবং অল্পের জন্য পরিবারের সদস্যরা প্রাণে রক্ষা পান। এরপর থেকেও বিভিন্নভাবে তাদের ওপর চাপ ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং দুই পায়ে আঘাতজনিত সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করতে হয় তাকে। এমন অবস্থায় গত ১৪ তারিখ বিকেলে তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুক্তি ভট্টাচার্যের অভিযোগ, একই দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সেলিম শেখ, সানোয়ার, সুবাহান ঢালী, জাহাঙ্গীর মুন্সী, সোহেল মুন্সী, নিলুফাসহ আরও কয়েকজন তার ঘরে প্রবেশ করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করা হলে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মাথায় দুটি সেলাই দিতে হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে সরকারি হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তিনি পাঁচ দিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর তার দাদা রাজৈর থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। পরে থানায় ডেকে তার হাসপাতালের ছাড়পত্রসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত সকল কাগজপত্র জমা নেওয়া হয় এবং পরদিন স্বাক্ষর নিয়ে মামলার বিষয়বস্তু পড়ে শোনানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের আর ডাকা হয়নি। পরে তারা জানতে পারেন, মামলা রেকর্ড করা হলেও তাদের কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি এবং মামলার নম্বর বা মামলায় কী লেখা হয়েছে সে বিষয়েও তাদের কিছু জানানো হয়নি। চিকিৎসার কাগজপত্রও এখনও থানায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মুক্তি ভট্টাচার্য আরও জানান, পরে তিনি জানতে পারেন তার বিরুদ্ধেও একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে সেই মামলার বাদী, অভিযোগ কিংবা কোন ধারায় মামলা হয়েছে—এসব বিষয়ে তাকে এখনো অবহিত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবার মাদারীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপার তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।
মুক্তি ভট্টাচার্য বলেন, তিনি কারও প্রতি অন্যায় করতে চান না। তার একমাত্র প্রত্যাশা হলো, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং তিনি যেন ন্যায়বিচার পান।