৬ষ্ঠ বর্ষে ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার মা ভবানী একতা সংঘ
সৌরভ সাহা
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫
48 জন পড়েছেন
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬কে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার মা ভবানী একতা সংঘ ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করেছে। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে এবারের দুর্গোৎসবকে আরও বর্ণাঢ্য ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে নানা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মা ভবানী একতা সংঘ শুধু শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক চেতনা এবং সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকাবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। গত পাঁচ বছরের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও একটি নান্দনিক, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও ভক্তিময় পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন সংঘের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
সংঘ সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে ব্যতিক্রমধর্মী ভাবনা, সৃজনশীল নকশা ও নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে মা ভবানী একতা সংঘের পূজামণ্ডপ দর্শনার্থীদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রতি বছরই সময়োপযোগী ও শিক্ষণীয় কোনো না কোনো থিমকে উপজীব্য করে মণ্ডপ নির্মাণের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে সংগঠনটি। বিশেষ করে গত বছরের ‘কৃষকের জীবনধারা’ থিমভিত্তিক মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। গ্রামীণ বাংলার কৃষকের জীবনসংগ্রাম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করায় মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নতুন ভাবনা, সৃজনশীল নির্মাণশৈলী ও নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে একটি ব্যতিক্রমধর্মী পূজামণ্ডপ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।
আয়োজকরা জানান, এবারের পূজায় থাকবে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা, মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা, আকর্ষণীয় মণ্ডপসজ্জা এবং ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশ। সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতি ও শাস্ত্রবিধি অনুসরণ করে মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিটি পূজা-অর্চনা যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।
এছাড়াও পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, স্বেচ্ছাসেবক টিমের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় আলোচনা, ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচিরও আয়োজন থাকবে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, মানবতা ও মিলনমেলার প্রতীক। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
মা ভবানী একতা সংঘের পক্ষ থেকে সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী, এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংগঠনের প্রত্যাশা, সবার সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং দেবী দুর্গার আশীর্বাদে ৬ষ্ঠ বর্ষের এই আয়োজন হবে আরও বর্ণাঢ্য, সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও সফল; যা দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।