ভক্তিবেদান্ত নামহট্টের উদ্যোগে সুবর্ণচরে নানা আয়োজনে জন্মাষ্টমী উদযাপন
হৃদয় চন্দ্র শীল
সুবর্ণচর প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪
10 জন পড়েছেন
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে পবিত্র জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ভক্তিবেদান্ত নামহট্টের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গোপালের অভিষেকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় ইসকন ভক্ত ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ভক্তরা হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করেন।
পরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবন, কর্ম ও আদর্শ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণচর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ছেনমং রাখাইন, নোয়াখালী কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জনাব জামাল উদ্দিন গাজী এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সুবর্ণচর উপজেলা শাখার সভাপতি, বাবু রতন তালুকদার।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খোকন চন্দ্র মজুমদার।
বক্তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, কর্ম ও দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁর শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জন্মাষ্টমী তিথি উপলক্ষে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গোপালের অভিষেক সম্পন্ন করা হয়। এ সময় ভক্তরা কীর্তন ও প্রার্থনায় অংশ নিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবেদন করেন।
পরে অনুষ্ঠিত হয় ভক্তিমূলক সংগীত, কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধর্মীয় পরিবেশনা। এসব পরিবেশনায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
আয়োজকরা জানান, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ ও শিক্ষাকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। উৎসবের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
দিনব্যাপী আয়োজনে ইসকন ভক্তিবেদান্ত নামহট্টের ভক্ত, স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, হরিনাম সংকীর্তন, কীর্তন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।