বৈষম্য পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জের হরিজন সম্প্রদায়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট সনু রানী দাস
হৃদয় চন্দ্র শীল
সুবর্ণচর প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩
23 জন পড়েছেন
নারায়ণগঞ্জের টানবাজার হরিজন কলোনিতে জন্ম সনু রানী দাসের। সামাজিক বৈষম্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন তিনি। তাঁর এই অর্জনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের হরিজন সম্প্রদায়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে পরিচিতি পান সনু।
শৈশব থেকেই সম্প্রদায়গত পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে সনুকে। স্কুলে যাতায়াতের সময় তাঁকে কটূক্তি শুনতে হতো। সনুর ভাষ্য অনুযায়ী, একবার একটি চায়ের দোকানেও শুধু পরিচয়ের কারণে তাঁকে চা দেওয়া হয়নি।
এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হন। পরে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তাঁর এই শিক্ষাগত সাফল্য হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
শিক্ষাজীবন শেষ করার পর সনু রানী দাস সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ২০০৮ সালে গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্কটল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ পান তিনি। সেখানে স্কটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের সামাজিক বৈষম্য, শিক্ষা ও অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
সনু রানী দাসের কার্যক্রম পরবর্তীতে শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়। হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি নারীদের শিক্ষা ও সামাজিকভাবে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
সনুর জীবন ও শিক্ষাগত অর্জন হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর পথচলায় উঠে এসেছে শিক্ষা, সমান সুযোগ ও সামাজিক মর্যাদার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি।
সামাজিক বৈষম্যের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের কথা তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া সনু রানী দাসের এই পথচলা তাই নারায়ণগঞ্জের হরিজন সম্প্রদায়ের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।