গণেশ চতুর্থীতে বলুয়ার দিঘিতে টিম শ্রীকৃষ্ণের জাদুকরী কনসার্ট, ভক্তদের উল্লাসে মুখরিত মহাশ্মশানঘাট
তন্ময় মালাকার
চট্রগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩১
40 জন পড়েছেন
শুভ গণেশ চতুর্থীর পবিত্র লগ্নে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক বলুয়ার দিঘি মাঠ যেন পরিণত হয়েছিল এক মহা ভক্তি-মেলায়। সোমবার সন্ধ্যায় অভয় মিত্র মহাশ্মশানঘাট প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য লাইভ কনসার্ট পরিবেশন করে চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সনাতনী ব্যান্ড টিম শ্রীকৃষ্ণ। তাদের সুরের মূর্ছনায় হাজারো সনাতনী ভক্তের হৃদয়ে জাগে ভক্তির জোয়ার।
সন্ধ্যা ৬টার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে ভক্তরা আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যা ৭টায় কনসার্ট শুরু হওয়ার আগেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আয়োজক কমিটির ভাষ্যমতে, প্রায় চার হাজারেরও বেশি ভক্ত এই কনসার্ট উপভোগ করেন। শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী এবং প্রবীণদের উপস্থিতিতে এক অভূতপূর্ব মিলনমেলার সৃষ্টি হয়।
মঞ্চে টিম শ্রীকৃষ্ণ উঠতেই "জয় শ্রীকৃষ্ণ" ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। একের পর এক তারা পরিবেশন করতে থাকে জনপ্রিয় কৃষ্ণভজন, হরিনাম সংকীর্তন, মহাদেবের গান এবং আধুনিক ভক্তিমূলক গান। ড্রামসের তালে, কিবোর্ডের সুরে এবং বাঁশির মনমুগ্ধকর ধ্বনিতে প্রতিটি গান পায় নতুন প্রাণ। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা ও ভক্তিময় কণ্ঠ উপস্থিত দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
দর্শকরা শুধু শ্রোতা হয়ে থাকেননি, তারাও হয়ে ওঠেন এই কনসার্টের অংশ। গানের তালে তালে হাততালি, নাচ, উলুধ্বনি এবং জয়ধ্বনিতে পুরো মাঠ প্রকম্পিত হয়। অনেক ভক্তকে খোল-করতাল হাতে কীর্তনে মেতে উঠতে দেখা যায়। তরুণরা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে আলোর সমুদ্র তৈরি করেন।
অনুষ্ঠানে আগত রাহুল দাশ নামে এক ভক্ত বলেন, "টিম শ্রীকৃষ্ণ দেখিয়ে দিল ধর্মীয় গানও কতটা আধুনিক ও প্রাণবন্ত হতে পারে। এমন আয়োজন আমাদের তরুণদের ধর্মের প্রতি আরও আকৃষ্ট করবে।"
আয়োজকদের একজন জানান, "গণেশ চতুর্থী শুধু পূজা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির উৎসব। নতুন প্রজন্মকে সনাতনী কৃষ্টির সাথে যুক্ত রাখতে এবং তাদের মাঝে ভক্তির বীজ বপন করতেই আমাদের এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও টিম শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে আমরা আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করতে চাই।"