বাবা আমি বাসায় যাব, ৭ বছরের অনুশ্রী দাসের শেষ কথা
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০
27 জন পড়েছেন
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৭ বছরের শিশু অনুশ্রী দাস। মৃত্যুর আগে আইসিইউতে বাবাকে দেখে তার শেষ কথা ছিল বাবা, আমি বাসায় যাব।
অনুশ্রী পহাড়তলীর রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে সুবল চন্দ্র দাস ও লিপি দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে ছোট।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর জ্বরে আক্রান্ত হয় অনুশ্রী। পরে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শুরুতে শারীরিক অবস্থা খুব একটা খারাপ না থাকলেও কয়েক দিনের মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়ে সে। কমে যায় খাওয়া-দাওয়া।
শুক্রবার অনুশ্রীর অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে শিশু আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। মেয়ের জন্য আইসিইউ বেড খুঁজতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বাবা সুবল চন্দ্র দাস। মেডিকেল সেন্টার, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ ও মা ও শিশু হাসপাতালে খোঁজ নিলেও কোথাও বেড খালি পাননি বলে জানান তিনি।
পরে পহাড়তলীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে অনুশ্রীকে ভর্তি করা হয়।
সুবল চন্দ্র বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে মেয়েকে দেখতে যান। তখন অনুশ্রীর প্লাটিলেটের মাত্রা নেমে আসে ২৩ হাজার ৫০০-তে।
বাবাকে দেখে অনুশ্রী বলেছিল, বাবা, আমি বাসায় যাব। এটিই ছিল মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা।
শনিবার সকালে অনুশ্রীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার লিভার ও কিডনিও আক্রান্ত হয়েছে। তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
শনিবার বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে ফেসবুকে সুবল লেখেন, আমার অনুশ্রী লাইফ সাপোর্টে।’ এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জানান, আমার মেয়ে অনুশ্রী আর নেই।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে অনুশ্রীর মৃত্যু হয়। রাতে সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় বলে জানান সুবল।
মেয়ের অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুশ্রীর জন্য সবার কাছে প্রার্থনা চেয়েছিলেন সুবল। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করার পাশাপাশি মুসলিম বন্ধুদের মসজিদে গিয়ে মেয়ের জন্য দোয়া করার অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে, গত ২ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে অনুশ্রীর সপ্তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন সুবল-লিপি দম্পতি। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে মেয়েকে নিজের ‘বেঁচে থাকার প্রেরণা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বাবা।
অসুস্থতার সময় মেয়ের খাওয়া নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। এক ফেসবুক পোস্টে সুবল লিখেছিলেন, টানা দুই দিন অনুশ্রী কিছু খেতে পারেনি। যে মেয়ে বাবার হাত থেকে খেতে ভালোবাসত, অসুস্থতার কারণে তাকেই আর খাওয়াতে পারছিলেন না।
শেষ বিদায়ের আগে মেয়েকে নিজের হাতে সাজিয়ে দেন সুবল। সেই ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুবল বলেন, আমার মেয়ে চলে গেছে। তাকে বাঁচানোর জন্য আমি সবকিছু করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।