গাইবান্ধার মন্দির সভাপতির গ্রেপ্তারে উদ্বেগ, ন্যায়বিচার ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় ছয় দফা দাবি এএফইআরএমবির
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১৫ জুলাই ২০২৬, ১৫:১২
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ লিমিটেড (এএফইআরএমবি)।ছবি: সংগৃহীত
5 জন পড়েছেন
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ লিমিটেড (এএফইআরএমবি) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরের সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, গভীর রাতে তাকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ন্যায়বিচার, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি ছয় দফা দাবি জানিয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এএফইআরএমবি জানায়, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম বা অন্য কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হতে পারে। তবে সেই তদন্ত এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়।
সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত ভগবান রামের মূর্তি এবং মন্দিরের ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এই গ্রেপ্তার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি বাড়াতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের আরও উৎসাহিত করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত হামলা, নির্যাতন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য দীপু চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত হয়নি বলে সংগঠনটির দাবি। এ অবস্থাকে তারা বিচারহীনতার উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনার আহ্বান জানিয়েছে।
এএফইআরএমবি বলেছে, গভীর রাতে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত গ্রেপ্তারের আইনি ভিত্তি, অভিযোগের প্রকৃতি এবং তদন্তে কী ধরনের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।
সংগঠনটি শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির, মন্দিরের পুরোহিত, ভক্ত এবং ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে তা কোনো সাম্প্রদায়িক চাপের কাছে নতি স্বীকার বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নেতৃত্বকে দমন করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।
সংগঠনটির উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের জন্য দ্রুত আইনজীবীর সহায়তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ বিবরণ প্রকাশ করা এবং নিরপেক্ষ ও সময়মতো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। একই সঙ্গে তদন্তে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া মন্দির ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদার, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হামলার অভিযোগের তদন্ত, দায়ীদের বিচার, সংবিধানে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের বিষয়ে সরকারের প্রকাশ্য অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত এবং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংগঠন ও সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে চিন্ময় প্রভু এবং আটক অন্যান্য সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও জানিয়েছে এএফইআরএমবি। সংগঠনটির দাবি, এসব গ্রেপ্তার সংখ্যালঘুদের কণ্ঠস্বর দমনের উদ্দেশ্যে হয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা রয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে এএফইআরএমবি উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের বহুত্ববাদ, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য দেশের অন্যতম বড় শক্তি। সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, আইনের সমান প্রয়োগ এবং সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।