চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রসঙ্গে কথা বলায় কলকাতার ইসকন মুখপাত্র বহিষ্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৯ জুন ২০২৬, ১২:০০
168 জন পড়েছেন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার ইসকনের সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাসকে বহিষ্কার করেছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)। বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন এবং সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়াসহ বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি তাকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।
সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া বলছে, রোববার (২৮ জুন) ঘোষণা করা এক সিদ্ধান্তে রাধারমণ দাসকে গণমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং জনসম্মুখে ইসকনের প্রতিনিধিত্ব করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার (ইউএনআই) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
অন্যদিকে বহিষ্কার হওয়ার পর রাধারমণ দাস এ শৃঙ্খলামূলক সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ইউএনআইকে তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে যারা আমাকে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ইসকনের অব্যাহত উন্নতি ও সাফল্য কামনা করি।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে রাধারমণ দাস ছয়টি নির্দিষ্ট কারণের কথা উল্লেখ করেন। মূলত এসব কারণেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে তার প্রকাশ্য মন্তব্য, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রতি সমর্থন, ২০২৬ সালের ২৯ মে রিপাবলিক টিভিতে অংশগ্রহণ, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধীকে আইনি নোটিশ পাঠানো, কৌতুকশিল্পী সুরলিন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়ের, সনাতন ধর্মের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়া এবং ১৯৭৬ সালের নিউইয়র্কের রথযাত্রার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করা।
তবে ইসকনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মূলত বাংলাদেশের সন্ন্যাসীকে (চিন্ময় কৃষ্ণ দাস) ঘিরে করা তার প্রকাশ্য মন্তব্যের জেরেই এ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে ইসকনের তৈরি নিরামিষ মধ্যাহ্নভোজ চালুর পক্ষে সরব ছিলেন রাধারমণ দাস। তবে কলকাতার স্কুলগুলোতে ইসকনের খাবার চালুর বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত নিলেও মেন্যু থেকে ডিম বাদ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
রাধারমণ দাসের দাবি ছিল, সয়াবিনের বড়ি, রাজমা, পনির ও ছোলার মতো খাবার শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইসকনের স্বয়ংক্রিয় রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিও তুলে ধরেন।
সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘আমরা (ইসকন) সারা বিশ্বে বাঙালি থালি পরিবেশন করি। তাই শুধু ডিম বা মাংস থাকলেই একটি বাঙালি থালি সম্পূর্ণ হয়— এ কথা ঠিক নয়। খাবারের তালিকায় ভাত, ডাল, খিচুড়ি ও সবজি থাকবে। থালিতে প্রোটিনের ঘাটতি থাকবে— এ ধারণাও সঠিক নয়। সয়াবিনের বড়ি ও রাজমার মতো অনেক উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রয়েছে।’
তবে ইসকনের সূত্রগুলোর দাবি, ডিম ও সয়াবিনের তুলনা করে রাধারমণ দাস যে প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব সন্তুষ্ট ছিল না। ইসকনের অবস্থান হলো, সাত্ত্বিক খাবার নিয়ে বিস্তারিত জনসম্মুখে ব্যাখ্যা দেয়ার অনুমতি কোনও ব্যক্তিকে দেয়া হয়নি।