এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কাউলকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রিউভেন আজার আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন এবং চরমপন্থা দমনে ইসলামাবাদের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আজার বলেন, ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং তাদের এই কূটনৈতিক অবস্থানকে সতর্কতার সঙ্গে দেখে। তিনি দাবি করেন, এমন কিছু দেশ আছে যারা মনে করে, শান্তি মানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা যেখানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। শান্তির বিষয়ে ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বোঝাপড়ার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে দাবি করে তিনি আঞ্চলিক বিষয়ে কাতারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
সাক্ষাৎকারে রিউভেন আজারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দাবিটি ছিল হামাসের আঞ্চলিক কার্যক্রম নিয়ে। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন যে, তারা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার দাবি অনুযায়ী, কিছু তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া গেলেও আরও কিছু গোপন কর্মকাণ্ড জনসম্মুখে নাও থাকতে পারে। হামাস যেভাবে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছিল, চরমপন্থি সংগঠনগুলো সেই একই মডেলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোথাও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলেও তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। আজার বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এ অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিজেদের উদ্বেগের কথা আলোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের সরকারি মহলের একাংশের বিরুদ্ধে 'ইহুদিবিদ্বেষী বয়ান' ছড়ানোরও অভিযোগ আনেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত, যা তার মতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ম্লান করে দেয়।
এখানে স্মরণ করা প্রয়োজন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযানের নামে চরম আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। হামাস নির্মূলের অজুহাতে সেখানে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অভিযানের শুরু থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে সিংহভাগই নিরীহ নারী ও শিশু। এই নির্মম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত 'ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসে' ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা, যা বিশ্বের বহু দেশ সমর্থন করে। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগ ছিল, ফিলিস্তিনিদের আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়েই ইসরায়েল গাজায় হামলা চালাচ্ছে এবং ১৯৪৮ সালের 'জেনোসাইড কনভেনশন' লঙ্ঘন করেছে। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ইসরায়েলের আগ্রাসী হামলা পুরোপুরি থামেনি এবং এরপরও সহস্রাধিক ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে সব জাতির মানবাধিকার রক্ষার তাগিদ থাকলেও গাজার এই মানবিক বিপর্যয় এখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।