মহাস্থানগড়ের ৪৭ প্রত্ননিদর্শনের সত্যতা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞ দল।
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০১ জুন ২০২৬, ০২:৪০
65 জন পড়েছেন
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর মহাস্থানগড় জাদুঘরের ৪৭টি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২০০৭ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো এসব নিদর্শন দেশে ফেরার পর কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বা যাচাই ছাড়াই সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল। ফলে এগুলো আসল নাকি প্রতিরূপ (রেপ্লিকা) এ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাঠে নেমেছে তদন্ত কমিটি ও বিশেষজ্ঞ দল।
এ লক্ষ্যে শনিবার (৩০ মে) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি তদন্ত কমিটির কার্যকাল আরও ১৫ কার্যদিবস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মহাস্থানগড় জাদুঘর থেকে ২০০৭ সালে ফ্রান্সে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ৪৭টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাঠানো হয়েছিল। প্রদর্শনী শেষে নিদর্শনগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও সেগুলোর সত্যতা যাচাই বা কারিগরি পরীক্ষা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণাগারে রাখা হয়। সম্প্রতি বিষয়টি আলোচনায় এলে এসব নিদর্শন আসল কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এ প্রেক্ষাপটে গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হয়। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কার্যক্রমকে আরও নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি পৃথক বিশেষজ্ঞ দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দল আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক পদ্ধতি ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিদর্শনগুলোর সত্যতা যাচাই করবে বলে জানা গেছে।
অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যরা এ পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রম, সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “মহাস্থানগড় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের ধারক। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কার্যক্রম সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কাজ সম্পন্ন করার আশা করছি।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নের মাধ্যমে ৪৭টি প্রত্ননিদর্শনের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কেরও অবসান ঘটতে পারে।