সীতা মাতার জন্মভূমি জানকী মন্দির: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভক্তির মিলনস্থল
হৃদয় চন্দ্র শীল
সুবর্ণচর প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
১৫ জুন ২০২৬, ০১:০৫
42 জন পড়েছেন
নেপালের জনকপুর শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জানকী মন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানেই রাজা জনকের কন্যা ও জগৎজননী সীতা দেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই যুগ যুগ ধরে এই মন্দির ভক্তদের কাছে বিশেষ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে আসছে।
জানা যায়, বর্তমান জানকী মন্দিরটি ১৯১১ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের টিকমগড়ের রানী বৃষভানু কুমারী-এর অর্থায়নে নির্মিত হয়। সে সময় মন্দির নির্মাণে প্রায় নয় লক্ষ টাকা ব্যয় হওয়ায় এটি ‘নওলাখা মন্দির’ নামেও পরিচিত। হিন্দু-রাজপুত ও মোগল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
প্রায় ৪৮ হাজার ৬০০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত তিনতলা এই মন্দিরটি পাথর ও মার্বেল দিয়ে তৈরি। মন্দিরের দেয়ালে রয়েছে মিথিলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী চিত্রকর্ম ও নান্দনিক কারুকাজ। গর্ভগৃহে স্থাপিত শ্রীরাম ও সীতা মাতার মনোরম বিগ্রহ দর্শনার্থীদের মধ্যে গভীর ভক্তি ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সৃষ্টি করে।
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে এই জনকপুরেই ভগবান শ্রীরামচন্দ্র মহাদেবের হরধনু ভঙ্গ করে সীতা মাতাকে বিবাহ করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতি বছর জানকী মন্দিরে ‘বিবাহ পঞ্চমী’ উৎসব পালন করা হয়। এ উপলক্ষে নেপাল ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী এবং পর্যটক জনকপুরে সমবেত হন।
বর্তমানে জানকী মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং নেপাল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটক সীতা মাতার জন্মভূমি দর্শন এবং প্রার্থনার জন্য এখানে আসেন।
ঐতিহ্য, ধর্মীয় গুরুত্ব ও মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যশৈলীর কারণে জানকী মন্দির আজও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পবিত্র তীর্থে প্রার্থনা করলে মনের শান্তি ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করা যায়।