ম্যাচের আগে ধ্যান, মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, হলান্ডের সাফল্যের মন্ত্র যোগাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪
38 জন পড়েছেন
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার, নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হলান্ড শুধু গোল করার দক্ষতার জন্যই নন, মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্যও সমানভাবে প্রশংসিত। প্রায় সাড়ে ৬ ফুট উচ্চতার এই ফরোয়ার্ড একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তীব্র প্রতিযোগিতা, মানসিক চাপ ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে নিজেকে শান্ত ও মনোযোগী রাখতে তিনি নিয়মিত যোগাসন ও ধ্যানের চর্চা করেন।
মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে, বিভিন্ন সময়েই হলান্ডকে পদ্মাসন বা সুখাসনের ভঙ্গিতে চোখ বন্ধ করে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে জ্ঞান মুদ্রায় ধ্যান করার এই অভ্যাস তাঁর মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ম্যাচ শুরুর আগে, অনুশীলন শেষে কিংবা ড্রেসিংরুমে, সুযোগ পেলেই তিনি কয়েক মিনিটের জন্য যোগাসন ও ধ্যানের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে নেন।
হলান্ডের মতে, একজন ফুটবলারের জন্য শুধু শারীরিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুরো ম্যাচজুড়ে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য মানসিক প্রশান্তি অপরিহার্য। আর সেই প্রশান্তি অর্জনের অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে তিনি যোগব্যায়ামকে বেছে নিয়েছেন।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেও তাঁকে ধ্যান করতে দেখা গেছে। উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের আগে নিজের মনকে শান্ত রাখতে এই অনুশীলন তাঁর আত্মবিশ্বাস ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে হলান্ডের দুর্দান্ত গতি, আক্রমণাত্মক খেলার ধরণ এবং চাপের মুহূর্তেও ঠান্ডা মাথায় গোল করার ক্ষমতার পেছনে তাঁর এই মানসিক প্রস্তুতির বড় ভূমিকা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে যোগব্যায়ামের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ক্রীড়াবিদদের মধ্যে শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও যোগাসন এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর্লিং হলান্ডের মতো বিশ্বমানের একজন ফুটবলারের নিয়মিত যোগচর্চা সেই বার্তাকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগাসন ও ধ্যান মানসিক চাপ কমাতে, মনোযোগ বৃদ্ধি করতে, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের ভারসাম্য উন্নত করতে সহায়ক। আধুনিক ক্রীড়াজগতে তাই যোগব্যায়াম এখন শুধু একটি ব্যায়াম নয়, বরং একজন অ্যাথলেটের সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও স্বীকৃত।