যুবসমাজকে সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০৫ জুন ২০২৬, ১২:১১
53 জন পড়েছেন
দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধপ্রবণতা ও ডিজিটাল ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, শিশু-কিশোর ও তরুণরা যদি মাঠমুখী হয়, তাহলে তাদের সুস্থ ও সৃজনশীলভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ভায়ারদিঘী সংলগ্ন খরনা এলাকায় পটিয়া মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পটিয়াতেও স্টেডিয়াম নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি মানসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অধিকাংশ সময় তারা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের পেছনে ব্যয় করছে। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে।
তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং জাতীয় পর্যায়ের জন্য দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরি করা সম্ভব হবে।
ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রীড়া ভাতার আওতায় ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ৫০০ খেলোয়াড়কে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ২ মে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দল গঠন করে ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা অন্বেষণ করা হবে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বাস্তবায়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়-প্রথম সংশোধিত)’ এর আওতায় পটিয়া মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ১২ মাস মেয়াদি এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৮ কোটি ২৭ লাখ ৬ হাজার ৮৬১ টাকা। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ স্টেডিয়াম নির্মিত হলে পটিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ফারহানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান, প্রকল্প পরিচালক মাহবুব মোরশেদ সোহেল, প্রকৌশলী সুকুমার সাহা, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।