অক্ষয় তৃতীয়া: ধর্মীয় তাৎপর্য, পালন পদ্ধতি ও করণীয়–বর্জনীয়
সৌরভ সাহা
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:২৩
221 জন পড়েছেন
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তিথি অক্ষয় তৃতীয়া আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভক্তিভরে পালিত হচ্ছে। চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত এ দিনটি শুভ কাজের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
‘অক্ষয়’ শব্দের অর্থ যা কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতে করা যে কোনো শুভকর্ম চিরস্থায়ী পুণ্য বয়ে আনে। একইভাবে খারাপ কাজও অক্ষয় পাপ হিসেবে গণ্য হয়। তাই এদিন ভক্তদের সতর্কভাবে প্রতিটি কাজ করার পরামর্শ দেন শাস্ত্রজ্ঞরা।
ধর্মীয় আচার অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়ায় ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে ভগবান বিষ্ণু ও শিবের পূজা করা হয়। অনেকেই গঙ্গাস্নান করতে না পারলে গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করে পূজা সম্পন্ন করেন। পূজায় তুলসিপাতা, চন্দন, দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি দিয়ে পঞ্চামৃত প্রস্তুত করা হয়।
পৌরাণিক কাহিনি মতে, এই দিনেই ভগবান বিষ্ণুর অবতার পরশুরামের জন্ম, গঙ্গার মর্ত্যে অবতরণ এবং মহাভারত রচনার সূচনা হয়েছিল। এছাড়া পাণ্ডবদের ‘অক্ষয়পাত্র’ প্রাপ্তির ঘটনাও এ দিনের সঙ্গে জড়িত।
অক্ষয় তৃতীয়াকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজা, দান ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। ভক্তরা এদিন দান-ধ্যান, জপ, উপবাস এবং দরিদ্রদের মধ্যে অন্ন-বস্ত্র বিতরণ করে থাকেন। বিশেষ করে ব্রাহ্মণকে খাদ্য, জল, পাখা, ছাতা ও দক্ষিণা প্রদান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
এদিন সোনা, রুপা কিংবা অন্যান্য ধাতব দ্রব্য কেনাও শুভ মনে করা হয়। তবে সামর্থ্য না থাকলে প্রয়োজনীয় শস্য, সবজি বা গৃহস্থালির সামগ্রী ক্রয় করাও মঙ্গলজনক বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
অন্যদিকে, অক্ষয় তৃতীয়ায় কিছু বিষয় বর্জনের কথাও বলা হয়েছে। যেমন—স্নান না করে তুলসী পাতা সংগ্রহ না করা, ব্রত ভঙ্গ না করা এবং কাউকে কটু কথা না বলা। এদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে শান্ত ও সংযত আচরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ধর্মীয় মতে, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি সঠিকভাবে পালন করলে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং জীবনে মঙ্গল বয়ে আনে। তাই ভক্তরা দিনটি কাটান পূজা, দান ও সৎকর্মের মধ্য দিয়ে।