প্রযুক্তিকে মানবসেবায় রূপান্তর প্রীতম পালের।
বিনামূল্যে বায়োনিক হাত দেবে ‘বঙ্গ রোবটিক্স’, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২৫ মে ২০২৬, ০৬:৫১
96 জন পড়েছেন
প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী প্রীতম পাল। দুর্ঘটনায় হাত হারানো কিংবা জন্মগতভাবে হাতবিহীন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সহায়তা করতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কৃত্রিম বায়োনিক (Robotic/Bionic) হাত প্রদান করার উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর সহ-প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গ রোবটিক্স’।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষার্থী প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন। তাঁর সহ-প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গ রোবটিক্স’-এর মাধ্যমে নেওয়া এই উদ্যোগকে একটি মানবিক প্রযুক্তি-প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে এই উদ্যোগের আওতায় দেশের ১০ জন অসচ্ছল ও প্রয়োজনমতো ব্যক্তিকে বিনামূল্যে বায়োনিক হাত প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যও রয়েছে তাঁদের।
জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বায়োনিক হাত ব্যবহার করে উপকারভোগীরা দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনীয় কাজ সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে শুধু শারীরিক সক্ষমতাই নয়, বরং তাঁদের মানসিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন ব্যক্তিদের, যারা দুর্ঘটনা কিংবা জন্মগত কারণে কনুইয়ের নিচের অংশ হারিয়েছেন এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কৃত্রিম হাত সংগ্রহে সক্ষম নন। আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের প্রযুক্তি খাতে তরুণদের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিকে শুধু উদ্ভাবন বা বাণিজ্যের সীমায় না রেখে মানবসেবার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করার একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি হচ্ছে।
উদ্যোক্তারা সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের এই উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে তথ্যটি পৌঁছে দিতে সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের ভাষায়, “আপনার একটি শেয়ারই বদলে দিতে পারে একজন মানুষের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও আত্মবিশ্বাস।”