৭ মিনিটে দূর হবে ক্যানসার! ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১৯ মে ২০২৬, ০৭:১২
187 জন পড়েছেন
মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য নতুন এক ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন এনে ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত, সহজ এবং রোগীবান্ধব করে তুলবে।
দেশটিতে প্রথমবারের মতো ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধ বাজারে এনেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া। প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির মতো দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থেকে শিরায় (আইভি) ইনফিউশন নেওয়ার পরিবর্তে নতুন এই ইনজেকশন সরাসরি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা যায়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।
চিকিৎসকদের মতে, নতুন এ পদ্ধতিতে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী এবং দূরবর্তী অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ বেশি উপকৃত হবেন।
এই চিকিৎসা মূলত নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে, যা ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে প্রচলিত ধরন।
নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি-এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এ প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। তবে প্রোটিনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শরীরের প্রতিরোধ কোষ ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এ থেরাপির জন্য উপযুক্ত হতে পারেন।
চিকিৎসকরা আরও জানান, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, অন্যদিকে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে।
তবে আধুনিক এ চিকিৎসার বড় চ্যালেঞ্জ এর উচ্চ ব্যয়। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়। ফলে পুরো চিকিৎসার ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে।
এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চিকিৎসাটি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস) আওতায়ও এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি এবং কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।