অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ‘বেপরোয়া’ শুল্ক-কর আদায়ের আশঙ্কা
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
১৫ জুন ২০২৬, ০৭:২৮
15 জন পড়েছেন
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে রাজস্ব আদায়ের সুস্পষ্ট কৌশল না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অতিরিক্ত শুল্ক-কর আরোপ কিংবা কঠোর রাজস্ব আদায়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর বাজেট আলোচনা সভায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যামচেমের নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। এতে সংগঠনের সদস্য, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে কঠোর ও কখনো কখনো বেপরোয়া রাজস্ব আদায় নীতির দিকে যেতে হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের বড় একটি অংশ অনুৎপাদনশীল ব্যয়ে চলে যাবে। মোট বাজেটের প্রায় ৪১ শতাংশ ব্যয় হবে বেতন-ভাতা, পেনশন, ভর্তুকি ও ঋণের সুদ পরিশোধে। পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখায় ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতির আশঙ্কাও রয়েছে।
প্যানেল আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কারণে এবারের বাজেট সম্প্রসারণমূলক হয়েছে। তবে এই বড় বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, ব্যবসা সহজীকরণের যে প্রত্যাশা ছিল, বাজেটে তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। তিনি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কৃষিখাতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী মহলের মতামত আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের বাস্তবসম্মত রূপরেখা অনুপস্থিত। দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে তারল্যসংকটে রয়েছে। ফলে সরকার যদি অতিরিক্ত ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আরও সংকুচিত হতে পারে।
আলোচনা সঞ্চালনা করেন অ্যামচেমের সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ।
সমাপনী বক্তব্যে অ্যামচেমের কোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যামচেমের দেওয়া ১৮টি সুপারিশের মধ্যে ৮টি গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রেক্ষাপটে আগামী বাজেট বাস্তবায়ন সরকারকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে।