কাদের খুশির বলি হলেন নিরীহ হরিদাস চন্দ্র ?
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩
24 জন পড়েছেন
পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে জামায়াত জোটের বেশ চাপের মুখে রয়েছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। সরকারের সমালোচনা করে পরপর কয়েকটি অঞ্চলে বিশাল জনসমাবেশ করেছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট। পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন হরিদাস। দেশের বিভিন্ন যায়গায় হিন্দুদের উদ্দ্যেশ্যে প্রকাশ্য হুমকিসহ রামের ছবিতে জুতাপেটার মতো ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু সেসময় সরকারসহ বিরোধীদলও চুপ ছিল। এদিকে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অভিযোগ উঠেছে, শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ আড়াল করতে এবং বিরোধী দলের চাপের হাত থেকে বাঁচতে মধ্যরাতে হরিদাসকে সিআইডি দিয়ে তুলে এনেছে বিএনপি সরকার।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানে এ উদ্যোগের বিরোধিতা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হুমকির অভিযোগ ওঠে। রামের ছবিতে জুতাপেটার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে হরিদাসের আইনজীবীর দাবি, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানিলন্ডারিং মামলার অভিযোগের সঙ্গে এজাহারে উল্লিখিত তথ্যের মিল নেই। মন্দির নির্মাণে বিদেশ থেকে অর্থ আনার অভিযোগেরও কোনো প্রমাণ তদন্তকারী পক্ষ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। তবে আদালত হরিদাসকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের একটি দল গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শ্রীশ্রী কালী মন্দির এলাকায় অভিযান চালিয়ে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১৩ জুলাই তাকে ঢাকার একটি আদালতে হাজির করা হয়।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক বিবৃতিতে হরিদাসের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার আশু মুক্তির দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং মামলার ভিত্তিতেই সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।