চুয়াডাঙ্গায় তিন মাস বয়সী শিশু মেঘলার মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকের ছায়া পরিবারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৮ জুন ২০২৬, ০২:৩১
28 জন পড়েছেন
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তিন মাস বয়সী এক শিশু কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত শিশুটির নাম মেঘলা ঘোষ। সে জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাইমারি স্কুলপাড়ার বাসিন্দা মাধু ঘোষ ও সরস্বতী ঘোষ দম্পতির কন্যা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে শিশু মেঘলা ঘুম থেকে জেগে কান্না শুরু করলে তার মা সরস্বতী ঘোষ তাকে মাতৃদুগ্ধ পান করান। প্রতিদিনের মতো দুধ পান করতে করতেই শিশুটি ঘুমিয়ে পড়েছে মনে করে তাকে বিছানায় শুইয়ে দেন তিনি। পরে তিনিও ঘুমিয়ে পড়েন।
এদিকে জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থানরত মাধু ঘোষ ভোরের দিকে বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে তিনি মেয়েকে কোলে নিলে তার শরীর অস্বাভাবিক মনে হয়। তখন দেখা যায় শিশুটির মুখ কালচে হয়ে গেছে এবং হাত-পা নিস্তেজ হয়ে রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হাসপাতালে আনার প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসনালীতে দুধ আটকে যাওয়ার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশু মেঘলার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সদ্যোজাত এই শিশুকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ও আনন্দ ছিল, যা মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে।
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতক ও অল্প বয়সী শিশুদের দুধ পান করানোর সময় এবং পরে কিছু সতর্কতা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুকে দুধ পান করানোর সময় মাথা ও বুক সামান্য উঁচু অবস্থায় রাখা, দুধ পান শেষে কিছুক্ষণ সোজা করে কোলে বা কাঁধে ধরে ঢেকুর তোলানোর চেষ্টা করা এবং সঙ্গে সঙ্গে শুইয়ে না দিয়ে কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখা নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া শিশুদের সবসময় চিৎ হয়ে ঘুম পাড়ানো এবং ঘুমের স্থানে বালিশ, ভারী কম্বল বা মুখ ঢেকে যেতে পারে এমন কোনো বস্তু না রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।