ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তৌহিদী জনতার হামলায় মন্দির, ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৬ জুন ২০২৬, ১৩:২৮
71 জন পড়েছেন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এক তরুণের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতঘর, দোকানপাট ও একাধিক মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) উপজেলার বাদাঘাট বাজার সংলগ্ন গড়কাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গড়কাটি গ্রামের বাসিন্দা নিখিল রায়ের ছেলে দীপ্ত রায় ওরফে প্রিন্স রায় (১৮)-এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক একটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দীপ্ত রায় এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
গ্রামের স্কুলশিক্ষক রিপন রায় জানান, তিনি শুনেছেন দীপ্ত রায়ের মোবাইল ফোনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন একটি স্ক্রিনশট সংরক্ষিত ছিল। তবে ওই স্ক্রিনশটটি দীপ্ত রায়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে কেউ একজন তার মোবাইল থেকে সংগ্রহ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে শত শত বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাদাঘাট বাজার ও গড়কাটি গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় গড়কাটি কালীমন্দির, দুর্গা মন্দির, নাটমন্দির এবং বাদাঘাট কালী মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়। কালীমাতার প্রতিমাও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে কয়েকটি বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
দীপ্ত রায়ের মা কেতকি রানী রায় বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে বিপুলসংখ্যক লোক তাদের বাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালায়। ঘরের আসবাবপত্র, মোটর, পানির ট্যাংকিসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, বাড়ির সামনে থাকা তাদের ভুসিমালের দোকানও ভাঙচুর করা হয়েছে। ওই দোকানটি দীপ্ত রায় ও তার বাবা নিখিল রায় দেখাশোনা করতেন।
কেতকি রানী রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে কয়েকজন যুবক তার ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তিনি জানতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টের জেরে পুলিশ তাকে আটক করেছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িছাড়া রয়েছেন।
এদিকে পুলিশ বাদী হয়ে দীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বহু প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশে অনেকে ভয় পাচ্ছেন। ফলে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কেউ বিস্তারিত তথ্য দিতে আগ্রহী নন।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।