নাসিরনগরে ইসকন মন্দিরে চুরি! ১৪টি প্রতিমাসহ দানবাক্স ও পূজার সরঞ্জাম লুট
মন্দিরের পাঁচটি কক্ষে থাকা মূর্তিগুলোর মধ্যে ছয়টি পিতলের এবং বাকি আটটি পাথরের
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৬
317 জন পড়েছেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে শ্রীশ্রী পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে সংঘটিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে মন্দিরের পাঁচটি কক্ষের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরেরা ১৪টি প্রতিমা, দুটি দানবাক্স এবং বিপুল পরিমাণ পূজার সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার ভোরে মন্দিরের পূজারি আদি শিষ্য মঙ্গল আরতির জন্য ঘুম থেকে উঠে প্রধান ফটকে এসে কক্ষগুলোর তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি মন্দিরের সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাসকে জানান। খবর পেয়ে সকালে নাসিরনগর থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম মো. আমিনুল ইসলামও মন্দিরে যান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, চুরি হওয়া ১৪টি প্রতিমার মধ্যে ছয়টি পিতলের এবং আটটি পাথরের। এ ছাড়া একটি রুপার পাদুকা, বাঁশি, কাঁসার বাসন ও কলস, হারমোনিয়াম, বালতি, পিতলের আসন ও গ্লাস, বিশুদ্ধ পানির মোটর এবং দুটি দানবাক্সে থাকা নগদ অর্থ চুরি হয়েছে।
পাশাপাশি এক পূজারির ঘর থেকে ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।
মন্দিরের পূজারি লিপি রানী গোপ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারবার এমন ঘটনার শিকার হয়ে তারা নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অন্যদিকে শিল্পা রানী মালাকার জানান, তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাঁর কক্ষের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও হাত, গলা এবং কানের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে চোরেরা। স্বামী-সন্তানহীন অবস্থায় প্রভুর সেবাই তাঁর একমাত্র অবলম্বন বলে জানান তিনি।
সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাস বলেন, প্রতিমা চুরি হওয়ার পাশাপাশি নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লুট হওয়ায় তারা চরম উদ্বিগ্ন। নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দানবাক্সের টাকাই ছিল চোরদের মূল লক্ষ্য। মন্দির এলাকায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও মাত্র একটি সচল ছিল, যেখানে একজন চোরকে গায়ে কম্বল বা কাপড় মোড়ানো অবস্থায় দেখা গেছে।
পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফ জানান, গ্রিল কেটে মন্দিরে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে এবং পুলিশের একাধিক দল চোর শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে কাজ করছে।
ঘটনাটি স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।