পরকীয়া সম্পর্কের জেরে শিপ্রা রানী দাসকে ধর্ষণ ও হত্যার চার বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন, মূল আসামি গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮
500 জন পড়েছেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দীর্ঘ চার বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা শিপ্রা রানী দাস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পরিচালিত তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, শিপ্রা রানী দাস জীবিকার তাগিদে রান্নার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। একই কাজে তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কালু বাবুর্চি ও তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজল। ২০২১ সালের ১ অক্টোবর কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর, ৪ অক্টোবর নবীনগর উপজেলার নবীপুর এলাকার একটি জলার চরের ফসলি জমি থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর ভিকটিমের স্বামী সবিনয় দাস নবীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় রুজু করা হয়।
প্রাথমিকভাবে নবীনগর থানা পুলিশ প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় তদন্ত পরিচালনা করলেও ঘটনার কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২২ সালের ২০ জুলাই মামলাটির তদন্তভার পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআইয়ের ধারাবাহিক তদন্তে ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার অন্যতম সহযোগী আসামি কালু বাবুর্চি প্রকাশ কালু সাহাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্তের দায়িত্ব একাধিক কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হতে থাকে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২২ মে এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মূল আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ২২ জুন গভীর রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, শিপ্রা রানী দাসের সঙ্গে তাজুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাজুল ইসলাম হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন শিপ্রা রানী দাসকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ নবীপুর এলাকার জলার চরের একটি ফসলি জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামি।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ চার বছর ধরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা আরও জোরালো হয়েছে।