দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৭ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চন্ডিপুর গ্রামে ঘরের ভেতর থেকে মা ও কিশোরী মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন ছোট চন্ডিপুর গ্রামের রিপেন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী সবিতা (ছবি) রানী রায় (৩৩) এবং তাদের একমাত্র মেয়ে পল্লবী রানী রায় (১৫)। পল্লবী স্থানীয় গোল্ডেন হোপ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পর থেকে মা ও মেয়েকে ঘরের বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে রিপেন চন্দ্র রায় ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে একই ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে দেখতে পান। পরে তাদের নিচে নামানো হলেও ততক্ষণে দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশ ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, পল্লবীর সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। পরে মেয়ের ইচ্ছায় গোপনে তাদের বিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পল্লবীকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে পরিবারে বিরোধ ও অশান্তি চলছিল বলেও স্বজনরা দাবি করেছেন।
নিহতের পরিবারের এক সদস্য সুশীল চন্দ্র বলেন, “পারিবারিক কলহের কারণেই আমার বোন ও ভাগনি এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।” তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পুলিশও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় ছোট চন্ডিপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।