বাবা রয়েছেন কারাগারে মা চলে গেলেন পরপারে, অনিশ্চয়তায় ছবি রাণী- লালা দাসের চার সন্তানের জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:০৭
27 জন পড়েছেন
আইনগত ও পারিবারিক এক নির্মম বাস্তবতার বলি হয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন হরিজন সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র নারী ছবি রানী দাশ। কারাগারে থাকা স্বামীর মুক্তি ও পরিবারের বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ মাস লড়াই করার পর গতকাল সন্ধ্যায় এক হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে চার ছোট্ট শিশু এখন সম্পূর্ণ পিতৃহীন ও মাতৃমাতৃহীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
চট্টগ্রাম সদরের বান্ডেল হরিজন কলোনীর বাসিন্দা লালা দাস। জানা যায়, আলোচিত চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী প্রভুর ইস্যুকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত একটি মামলায় বিগত প্রায় পাঁচ মাস আগে হরিজন সম্প্রদায়ের লালা দাশকে গ্রেপ্তার করে প্রশাসন। লালা দাশই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি কারাগারে বন্দি হওয়ার পর থেকেই তাঁর পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্দিন।
পরিবারে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় লালার স্ত্রী ছবি রানী দাশ আর্থিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন। স্বামীর আকস্মিক গ্রেপ্তার এবং তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার দুশ্চিন্তা ও চরম হতাশা ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করে।
স্বামীর মুক্তির আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে এবং অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাতে কাটাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। অবশেষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৮ ঘটিকায় একটি হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ছবি রানী দাশ।
মৃত ছবি রানী দাশ ও কারাবন্দি লালা দাশ দম্পতির চার সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ের বয়স যথাক্রমে ৫ ও ৭ বছর এবং দুই ছেলের বয়স ১৫ ও ১৮ বছর। ছোট এই শিশুগুলোর মাথার ওপর থেকে এখন মায়ের ছায়াও চিরতরে মুছে গেল, আর বাবা বন্দি আছেন কারাগারে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা কারাগারে এবং মা পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নেওয়ায় অবুঝ এই চার সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত অন্ধকারে নিমজ্জিত।
প্রশ্ন উঠেছে—বাবা কারাগারে জীবন কাটাচ্ছেন আর মা মৃত, এখন এই চার এতিম সন্তানের দায়িত্ব কে নেবে? সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, মানবাধিকার সংগঠন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও হরিজন সম্প্রদায়।