মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের যে সড়কে রথযাত্রা, সেখানেই বোমা উদ্ধার !
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০২
25 জন পড়েছেন
রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল। পুলিশ বলেছে, নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি আইএডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)।
ডিএমপি সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার(২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে সড়কে একটি ছাতার ভেতরে একটি বোমা রাখা ছিল। এটি দেখে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখেন। ডিএমপির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় ওই সড়কে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার করা বোমাটি আইএডি প্রকৃতির। পরে সেটি সেখান থেকে সরিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ছাতার ভেতরে কে বা কারা বোমা রেখেছে, তাদের শনাক্ত করতে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে মেট্রোরেল পুলিশের (এমআরটি) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সিদ্দিকী তানজিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রতিবেদন তৈরি করতে ব্যস্ত আছেন। এ নিয়ে কথা বলতে পারবেন না।
তবে এমআরটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কর্তব্যরত কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কের পাশ থেকে বোমা উদ্ধার হয়েছে। তাই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
রাজধানীতে রথযাত্রার নির্ধারিত রুটে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন এবং নিরাপত্তা জোরদার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে রথযাত্রায় অংশ নিতে আসা ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যান। প্রাথমিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও এর পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দায়ীদের শনাক্তে কাজ চলছে।
এদিকে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।