সোনাইমুড়ীতে ৫০০ বছরের প্রাচীন মঠ ভাঙার ঘটনায় কাউন্সিলরের ইন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫
15 জন পড়েছেন
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন একটি মঠ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট একটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় কাউন্সিলর জহিরুল ইসলামের ভূমিকা রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যে স্থানে প্রাচীন মঠটি ছিল, তার পাশেই কাউন্সিলর জহিরুল ইসলামের একটি মার্কেট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মার্কেট নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত জমি তিনি একজন সনাতনী ধর্মাবলম্বী বন্ধুর কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন, যিনি ওই এলাকার বাজার ও মঠসংলগ্ন জমির উত্তরসূরি বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মঠটি মার্কেটের সৌন্দর্য নষ্ট করছে—এমন দাবি তুলে গত প্রায় এক বছর ধরে স্থানীয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেখানে বিষাক্ত সাপের উপস্থিতির কথা বলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া যেদিন মঠটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, সেদিন কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মঠটি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ যাতে না নেওয়া হয়, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই ভয়ভীতির কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ফাউন্ডেশনের নেতারা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিকানা কী এবং এটি সরকারি সম্পত্তি হলে কখন ও কী প্রক্রিয়ায় অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তারা এ-সংক্রান্ত সকল সরকারি নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আসে।
ফাউন্ডেশনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নৃগোষ্ঠী বিষয়ক সহকারী বিজন কান্তি সরকারের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তারা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রাচীন এই মঠটি তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ। তাই ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।