আইপিএল কাঁপানো ১৫ বছরের সূর্যবংশীতে মুগ্ধ শচীন
আইপিএলের মঞ্চে ক্রিস গেইলের রেকর্ড ভেঙে হইচই ফেলে দেওয়া ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার! তরুণ এই প্রতিভাকে আগলে রেখে ডানা মেলার স্বাধীন সুযোগ দিতে ক্রিকেট বিশ্বের প্রতি কী আহ্বান জানালেন ব্যাটিং গ্রেট, বিস্তারিত জানতে পড়ুন "HINDUS NEWS"-এর পাতায়।
এবারের আইপিএল আসরে বৈভব সূর্যবংশী ব্যাট হাতে যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ২৩৭.৩১ এর মতো অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটে তিনি মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে তিনি হাঁকিয়েছেন রেকর্ডসংখ্যক ৭২টি ছক্কা, যার মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটার ক্রিস গেইলের এক আসরে সর্বোচ্চ ৫৯টি ছক্কার পুরনো রেকর্ডটি পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বৈভবের এই অসাধারণ ব্যাটিং কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শচীন টেন্ডুলকার জানান, সবাই এখন সূর্যবংশীকে নিয়ে আলোচনা করছে এবং তার ব্যাটিং দেখাটা ছিল সত্যিই এক দারুণ অভিজ্ঞতা। বৈভবের কেবল বলকে সীমানা পার করার ক্ষমতাই অসাধারণ নয়, বরং ব্যাটিংয়ের সময় তার কব্জির নিখুঁত মোচড় ও অনায়াসে মাঠের সবদিকে শট খেলার দক্ষতা শচীনকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। শচীনের মতে, বৈভব কোনো বল স্রেফ জোরে মারার জন্য স্লগ করছে না, বরং বোলারদের লাইন-লেন্থ অন্যদের চেয়ে অনেক আগে অনুধাবন করে অবলীলায় বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
বিশ্ব ক্রিকেটের এই মহানায়ক তরুণ সূর্যবংশীকে আগামী দিনে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী পোশাকেও দেখতে চান, তবে এর জন্য তিনি কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করার পক্ষে নন। ২০০টি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শচীন মনে করেন, বয়স ও অভিজ্ঞতার সাথে সাথে বৈভব ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার কৌশল নিজে থেকেই রপ্ত করে নেবে। শচীন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ দিন এবং শেষ বল পর্যন্ত বোলাররা নানামুখী প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবে, আর একজন ব্যাটারকে সবসময় সমাধানকেন্দ্রিক মানসিকতা নিয়ে মাঠে টিকে থাকতে হবে। বৈভবের মাঝে সেই আত্মবিশ্বাস ও নিজের খেলার প্রতি স্পষ্ট ধারণা লক্ষ্য করেছেন তিনি। তাই এই তরুণ তুর্কির সহজাত ব্যাটিং প্রবৃত্তিকে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা কৃত্রিম শৃঙ্খলে আবদ্ধ না করে, তাকে নিজের মতো করে খেলার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শচীন।
জাতীয় দলে বৈভবের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে শচীন টেন্ডুলকার বলেন যে, শুধু তিনি নিজে নন, ক্রিকেটপ্রেমী প্রতিটি মানুষই একটা সময়ে এই অসামান্য প্রতিভাকে টেস্ট ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখতে চাইবে। তবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি কবে আসবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সম্ভাবনাময় এই প্রতিভাকে ক্রমাগত মানসিক চাপে না রেখে, চারপাশ থেকে কেবল উৎসাহ ও নিঃশর্ত সমর্থন জোগানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। বৈভবের ব্যাটিংয়ের স্বাভাবিক ছন্দে যেন বাইরের কোনো আলোচনা বা প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ উতরে গিয়ে তরুণ এই ক্রিকেটার যেন চাপমুক্ত হয়ে খেলাটাকে পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ বজায় রাখার প্রতি জোর দিয়েছেন ক্রিকেট ঈশ্বর।