নেত্রকোনার দুর্গাপুর বাজার কালী মন্দিরে চুরির চেষ্টা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে যুবক আটক
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২৬ জুন ২০২৬, ০২:৩১
49 জন পড়েছেন
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুর বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দিরে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ এবং প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (২৫ জুন) সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে এক যুবক সন্দেহজনকভাবে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। পরে সে মন্দিরের ভেতরে চুরির উদ্দেশ্যে তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি প্রতিমা ও মন্দিরের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুরের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। মন্দিরে উপস্থিত কয়েকজন পুণ্যার্থী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন। পরে মন্দিরের ভেতরে তার কর্মকাণ্ড দেখে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন যে তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করেছেন। এরপর জনতা তাকে আটক করে এবং পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই উত্তপ্ত না হয়, সেজন্য দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আটক যুবককে জনতার কাছ থেকে নিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেয়। এ সময় মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত কৌতূহলী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মন্দিরে চুরির চেষ্টা এবং ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, দুর্গাপুর বাজারের কালী মন্দিরটি এলাকার একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনালয়। এখানে প্রতিদিন বহু ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এমন একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরির চেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগের ঘটনা তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।