গীতা প্রচার সংস্থা (GPS)-এর উদ্যোগে চট্টগ্রামে বার্ষিক গীতা পরীক্ষা, অংশ নিলেন ১৫০-এর বেশি শিক্ষার্থী
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৯
29 জন পড়েছেন
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে গীতা প্রচার সংস্থা (GPS)-এর উদ্যোগে বার্ষিক গীতা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩১ জুলাই, শুক্রবার সকালে নগরীর হালিশহর দক্ষিণ কাট্টলি সমতা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন জেলে পাড়া শ্রীশ্রী কালী মাতা ঠাকুরাণী মন্দিরে শান্তিপূর্ণ ও ভক্তিময় পরিবেশে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
গীতা প্রচার সংস্থা (GPS)-এর অনুমোদিত পাঁচটি গীতা শিক্ষা নিকেতনের বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও অনুশীলন যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এ বার্ষিক পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।
এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পাঁচটি গীতা শিক্ষা নিকেতন হলো— শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ গীতা শিক্ষা নিকেতন, পাঞ্চজন্য গীতা শিক্ষা নিকেতন, শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ গীতা শিক্ষা নিকেতন, শ্রীশ্রী ব্রজ গোপাল গীতা শিক্ষা নিকেতন এবং অমৃত বাণী গীতা শিক্ষা নিকেতন। এসব শিক্ষা নিকেতন থেকে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম ও পরীক্ষার পরিবেশ পরিদর্শন করেন গীতা প্রচার সংস্থা (GPS)-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রী বিপ্লব দাশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সিনিয়র উপদেষ্টা পণ্ডিত শ্রীযুক্ত প্রিয়নাথ চৌধুরী ও শ্রীমতী গীতা রানী চৌধুরী।
এছাড়া সাংগঠনিক উপকমিটির উপদেষ্টা শ্রীমান সুমন দাশ, সাধারণ সম্পাদক শ্রীমান মিঠুন দাশ, বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা কমিটির উপদেষ্টা শ্রীমান সুজন নাথ, যুগ্ম সভাপতি শ্রীমান প্রণব দাশ এবং সাংগঠনিক পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রীমান বিশ্বজিৎ পাল উপস্থিত থেকে পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমান রূপ চৌধুরী, শ্রীমান দিগন্ত দাশ, শ্রীমান প্রেম দাশ অক্ষয়, শ্রীমান সৃজন বণিক, শ্রীমান দ্বীপ বণিক ও শ্রীমতী প্রিয়াংকা সরকার।
পরীক্ষা গ্রহণ ও সার্বিক পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন শ্রীমতি কৃষ্ণা রাণী চৌধুরী, শ্রীমতি সুপ্রিয়া বিশ্বাস, শ্রীমতি তন্দ্রা মল্লিক, শ্রীমতি শিলা চৌধুরী, শ্রীমান সঞ্জয় দাশ, শ্রীমান প্রান্ত দাশ ও শ্রীমান লিটন দাশ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গীতা প্রচার সংস্থা (GPS)-এর সাংগঠনিক পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা শ্রীমতি কৃষ্ণা রাণী চৌধুরী, কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সভাপতি শ্রীমান প্রান্ত দাশসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষক, অভিভাবক, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা।
পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও উপস্থিত অতিথিদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। আনন্দঘন ও ভক্তিময় পরিবেশে সবাই মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আদর্শ তাদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলাবোধ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অভিভাবকরা গীতা প্রচার সংস্থা (GPS)-এর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, নিয়মিত গীতা শিক্ষা ও পরীক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার চেতনা গড়ে উঠছে। শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি অংশ নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে বেড়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও পরোপকারের মানসিকতা গড়ে তোলার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত গীতা শিক্ষা এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
গীতা প্রচার সংস্থা (GPS)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা জানান, নতুন প্রজন্মকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা ও সনাতন ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও গীতা শিক্ষা কার্যক্রম, নিয়মিত পরীক্ষা, ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারা বলেন, গীতার জ্ঞান শুধু পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়; এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করাই মূল উদ্দেশ্য। শিশু-কিশোরদের মধ্যে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গীতা শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে।
বার্ষিক গীতা পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় গীতা প্রচার সংস্থা (GPS)-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট গীতা শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরীক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, মন্দির কর্তৃপক্ষ, ভক্তবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত গীতা শিক্ষা ও পরীক্ষার মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।