ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেন চা-শ্রমিক পরিবারের মেয়ে ইতি গৌড়, বরমচাল চা-বাগানের ইতিহাসে প্রথম
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬
36 জন পড়েছেন
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল চা-বাগানের চা-শ্রমিক পরিবারের মেয়ে ইতি গৌড় (১৯) দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ফিন্যান্স বিভাগে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগেও ভর্তির সুযোগ লাভ করেছিলেন। তবে উচ্চশিক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নিয়েছেন।
ইতির বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল চা-বাগানের ডিপো লাইনে। তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। চা-শ্রমিক পরিবারের সীমিত সামর্থ্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরলস পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহের মাধ্যমে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বরমচাল চা-বাগানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেন। ফলে ইতির এই অর্জনে পুরো চা-বাগানজুড়ে আনন্দ, গর্ব এবং উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী, শিক্ষক, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছেন।
বরমচাল চা-বাগানের বাসিন্দা ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নিত্যানন্দ দাস বলেন, “এই বাগান থেকে আগে কেউ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। নিজের মেধা, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে ইতি সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমরা তার এই অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত। তার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।”
স্থানীয়দের মতে, চা-বাগানের সন্তানদের জন্য ইতি গৌড় এখন একটি অনুপ্রেরণার নাম। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার সুযোগের অভাব এবং সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন না। সেই বাস্তবতায় ইতির এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক সাফল্যের গল্প তৈরি হবে। ইতি গৌড়ের অর্জন প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে চা-বাগানের শিক্ষার্থীরাও দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।
ইতি গৌড়ের এই অসাধারণ সাফল্যে বরমচাল চা-বাগানসহ মৌলভীবাজার জেলায় আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার এই অর্জন শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো চা-শ্রমিক সমাজের জন্য গর্বের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক মাইলফলক।