প্রতিকূলতাকে জয় করে চার বিশ্ববিদ্যালয়ে হরিজন সম্প্রদায়ের চার শিক্ষার্থী
হৃদয় চন্দ্র শীল
সুবর্ণচর প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫
88 জন পড়েছেন
সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে দেশের চারটি শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছেন হরিজন সম্প্রদায়ের চারজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষা অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন— নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন; রামনাথ বাঁসফোর, যিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অধ্যয়নের সুযোগ অর্জন করেছেন; ওম বাঁসফোর, যিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন; এবং দ্বীপ বাবু, যিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করেছেন।
জানা গেছে, অন্য সব শিক্ষার্থীর মতো তারাও নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধার ভিত্তিতেই এই সাফল্য অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য এই অর্জন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সাফল্য একই সম্প্রদায়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এগিয়ে আসতে উৎসাহ পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা একজন মানুষের জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তাই সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে হরিজনসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আরও অনেক শিক্ষার্থী দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।
হরিজন সম্প্রদায়ের এই চার শিক্ষার্থীর সাফল্যে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক সংগঠন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, উচ্চশিক্ষা শেষে এই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
‘শিক্ষাঙ্গণে হরিজন’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে হরিজন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শুভানুধ্যায়ীরা।