সুবর্ণচরে ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ পাঠাগারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
হৃদয় চন্দ্র শীল
সুবর্ণচর প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০১ জুন ২০২৬, ১২:৪৫
57 জন পড়েছেন
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি এলাকার অবস্থিত ৫ নম্বর আশ্রয়ণ প্রকল্পে জ্ঞানচর্চা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ পাঠাগার। ‘পাঠাগার হোক মানুষ গড়ার হাতিয়ার’ স্লোগানকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা পাঠাগারটির উদ্বোধন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় গত (৩১ মে) রবিবার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে মানবিকতা, নৈতিকতা ও সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি বড় অংশ মাদক, জুয়া ও মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বই পড়া ও জ্ঞানচর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর ফলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করে গড়ে তুলতে এবং তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটাতে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি পাঠাগার শুধু বই পড়ার স্থান নয়; এটি মানুষ গড়ার অন্যতম মাধ্যম। বই মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে, জ্ঞান সমৃদ্ধ করে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে। একটি শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে পাঠাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাঠাগার প্রতিষ্ঠার এ উদ্যোগে ৫ নম্বর আশ্রয়ণ প্রকল্প সমাজের সহ-সভাপতি মানিক চন্দ্র শীল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বাধীন সাহা, বিটুল তালুকদার, স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী জয় শীল ও মনোতোষ বাবুসহ এলাকার সচেতন ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও সমর্থনে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিটুল তালুকদার বলেন, “একটি বই একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। বর্তমান সময়ে তরুণদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই জরুরি। মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রাখতে পাঠাগারের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ পাঠাগার এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য জ্ঞানচর্চার একটি প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানান, ভবিষ্যতে পাঠাগারের উদ্যোগে বইপাঠ কর্মসূচি, মনীষী স্মরণ, সাহিত্যচর্চা, খেলাধুলা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি পাঠাগারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সমাজের শিক্ষানুরাগী, সংস্কৃতিমনা ও মানবিক ব্যক্তিদের আর্থিক ও নৈতিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ পাঠাগার নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান, মানবিকতা ও সুস্থ সংস্কৃতির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এলাকায় একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা করবে।