প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গায় টয়লেট নির্মাণ!
||
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মন্দির স্থাপনের ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার “ জায়গাও নেই” বলে আবেদনটি নাকচ করে দেয়। অথচ সেই একই প্রস্তাবিত স্থানে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ টয়লেট নির্মাণ শুরু করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।সনাতনী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের এই আচরণ কেবল দ্বিচারিতাই নয়, বরং সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত এবং প্রতারণার শামিল। যে জায়গাকে মন্দির স্থাপনের জন্য অপ্রতুল বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে শৌচাগার নির্মাণ শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে সমস্যাটি জায়গার নয়, বরং মানসিকতা ও সদিচ্ছার অভাব। শিক্ষার্থীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অবমাননার ইঙ্গিত বহন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
এই প্রেক্ষাপটে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে টয়লেট নির্মাণ বন্ধ, প্রস্তাবিত স্থানেই মন্দির স্থাপনের অনুমোদন এবং “জায়গা নেই” বলে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং ধর্মীয় সহাবস্থান ও সমঅধিকারের প্রশ্ন।অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি সমান সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান ঘটনায় তা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা অটল।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচির প্রতি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে তা বৃহত্তর সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কীভাবে জবাবদিহি করে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি পূরণে কী পদক্ষেপ নেয়।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news