প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুফাইজার মৃত্যু!
||
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার প্রান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত ৯ বছর বয়সি শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনানকে আর বাঁচানো গেল না। দীর্ঘ প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হুজাইফার মা সাবেকুন নাহার ও চাচা শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিশুটি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিল। তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। শনিবার সকালে মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ও এলাকাবাসীর শোকে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি বিকেলে বাবা জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় হঠাৎ মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিটি তার মাথায় ঢুকে গুরুতর আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার গয়ালমারা এলাকার একটি এনজিও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় গণমাধ্যমকে জানান, অস্ত্রোপচার করে শিশুটির মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হলেও মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি ঝুঁকির কারণে বের করা সম্ভব হয়নি। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।হুজাইফার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের এভাবে প্রাণ হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।”এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব প্রায়ই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এসে পড়ছে। কখনো গোলাগুলি, কখনো মর্টার শেল বা stray bullet এসে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে।হুজাইফার পরিবারের সদস্যরা দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে হারিয়েছি। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবা-মাকে এভাবে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news