প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কাঁটাতারের বাধা হার মানল রক্তের টানে: বাংলাদেশি ভাইকে কিডনি দান ভারতীয় বোনের
||
কাঁটাতারের বেড়া মানুষের তৈরি সীমানা নির্ধারণ করলেও, রক্তের টান যে কোনো বাধা মানে না, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হলো ভারতের তিলোত্তমায়। বাংলাদেশের বাসিন্দা ছোট ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলেন ভারতে বসবাসকারী বড় বোন। পূর্ব ভারতে এই প্রথম এমন কোনো ঘটনা ঘটল যেখানে আন্তঃদেশীয় সীমানা পেরিয়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একজনকে নতুন জীবন দেওয়া হয়েছে।৪৩ বছর বয়সী স্বপন বিশ্বাস বাংলাদেশের সাতক্ষীরার একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। ২০১৮ সাল থেকে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি তার জীবিকাও হারান। অন্যদিকে, তার বড় বোন ৫৫ বছর বয়সী অনুপা বিশ্বাস ভারতের বর্ধমানের বাসিন্দা।পরিবারের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় তাদের বাবা-মা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময় অনুপা মায়ের গর্ভে ছিলেন এবং তার জন্ম বর্ধমানেই হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবারটি বাংলাদেশে ফিরে আসলেও অনুপাকে বর্ধমানে বিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তিনি ভারতের নাগরিক হয়ে যান এবং স্বপন বাংলাদেশে বড় হন। স্বপনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার 'আরএন টেগোর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিয়াক সায়েন্সেস'-এর চিকিৎসকরা তাকে কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। খবর পেয়ে বোন অনুপা এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজের একটি কিডনি ভাইকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন যে ভাই-বোনের জেনেটিক ম্যাচ শতভাগ সফল, যা প্রতিস্থাপনের জন্য আদর্শ। গত ৩ জানুয়ারি কলকাতার ওই হাসপাতালে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ প্রতীক দাস এবং ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন তড়িৎ আলী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল এই অস্ত্রোপচার করেন। বর্তমানে দুজনেই সুস্থ আছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। দুই দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে এই অঙ্গদানের প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। দীর্ঘ আইনি নথিপত্র এবং এনওসি জোগাড় করতে অনেক সময় লেগেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের ঐকান্তিক চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত এই মানবিক কাজ সফল হয়। ভাই স্বপন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি, ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার দিদি নাছোড়বান্দা ছিলেন। জামাইবাবু এবং ভাগ্নিও তার এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।" চিকিৎসক ডাঃ প্রতীক দাস বলেন, "এই বিরল আন্তঃদেশীয় প্রতিস্থাপন প্রমাণ করে যে ভালোবাসা, রক্তের সম্পর্ক এবং মানবিকতা সব সময় মানুষের তৈরি সীমানার ঊর্ধ্বে থাকে।" বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, স্বপন ও অনুপা বিশ্বাস আশা করেন যে দুই প্রতিবেশী দেশ আবারও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। সুস্থ হয়ে স্বপন এখন বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায়, তার শরীরে এখন স্পন্দিত হচ্ছে এক ভারতীয় বোনের ভালোবাসার উপহার।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news