প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৬ বছরে লামা কেন্দ্রীয় গীতা শিক্ষা নিকেতন: ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা
||
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের অন্যতম জনবহুল ও বৈচিত্র্যময় জনপদ লামা উপজেলা। যেখানে হিন্দু ও মুসলমানসহ ১৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য সহাবস্থান পরিলক্ষিত হয়। এই জনপদের সনাতনী সম্প্রদায়ের শিশুদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘লামা কেন্দ্রীয় গীতা শিক্ষা নিকেতন’। শিশুদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের ভেতরে ন্যায়বোধ জাগ্রত করতে এবং গীতাপাঠে উদ্বুদ্ধ করতে আজ শুক্রবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ প্রচারণা চালিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একদল নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক।লামা উপজেলার সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘লামা কেন্দ্রীয় হরি মন্দির’। এই মন্দির প্রাঙ্গণেই আজ থেকে প্রায় ২৬ বছর আগে ২০০০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ‘লামা কেন্দ্রীয় গীতা শিক্ষা নিকেতন’। তৎকালীন দুর্গম এই পাহাড়ি অঞ্চলে সনাতনী শিশুদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। সেই থেকে আজ অবধি কোনো বিরতি ছাড়াই প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে শিশুদের নিয়মিত গীতা ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করছে।
সাপ্তাহিক পাঠদানের পাশাপাশি আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। লামা কেন্দ্রীয় গীতা শিক্ষা নিকেতনের অধ্যক্ষ বাসু কান্তি দাস এবং শিক্ষক বাসু কর্মকারসহ অন্যান্য শিক্ষকরা আজ লামা বাজারের প্রতিটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তারা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন যে তাদের সন্তানরা নিয়মিত গীতাস্কুলে যাচ্ছে কি না। একইসাথে সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং তাদের মনে উচ্চতর মানবিক গুণাবলি ও ন্যায়বোধ জাগ্রত করতে প্রতি শুক্রবার নিয়মিত গীতাস্কুলে পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।
এই বিশেষ উদ্যোগ প্রসঙ্গে লামা কেন্দ্রীয় গীতা শিক্ষা নিকেতনের অধ্যক্ষ বাসু কান্তি দাস জানান,-"তৎকালীন দুর্গম এই এলাকায় ২০০০ সালে আমরা যে স্বপ্নের বীজ বুনেছিলাম, তা আজ বিশাল এক বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। আমাদের ২৫০-এর অধিক শিক্ষার্থী থাকলেও আমরা চাই কোনো শিশু যেন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। যারা এখনো মন্দিরে বা গীতা স্কুলে আসছে না, আমরা তাদের ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো গীতাপাঠের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে ন্যায়বোধ ও উচ্চতর মানবিক গুণাবলি জাগ্রত করা।"শিক্ষকদের এমন সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া এবং প্রচার কার্যক্রমকে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবক সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, শিক্ষকদের এই ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা ও আন্তরিকতা শিশুদের মাঝে গীতাপাঠের প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে একটি নৈতিকতাসম্পন্ন সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news