প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বিষ্ণু মূর্তি! নিন্দা জানাল ভারত
||
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে ভগবান বিষ্ণুর একটি মূর্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই ঘটনাকে চরম অসম্মানজনক ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্য প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত বিরোধের অজুহাতে ধর্মীয় প্রতীক ও ঐতিহ্য ধ্বংস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
কম্বোডিয়ার প্রিয়া বিহার প্রদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দাবি, গত সোমবার থাই সামরিক বাহিনী একটি ভারী এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ভগবান বিষ্ণুর মূর্তিটি গুঁড়িয়ে দেয়। মূর্তিটি সীমান্ত রেখা থেকে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে কম্বোডিয়ার আন সেস এলাকায় অবস্থিত ছিল। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মূর্তিটি ২০১৪ সালে নির্মিত হয় এবং এটি স্থানীয় হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই অত্যন্ত শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ছিল।
এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিয়া বিহার প্রদেশের মুখপাত্র লিম চানপানহা বলেন, বৌদ্ধ ও হিন্দু অনুসারীদের কাছে পূজনীয় প্রাচীন মন্দির ও দেবমূর্তি ধ্বংসের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু একটি স্থাপনা ধ্বংস নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত। তবে এ বিষয়ে থাইল্যান্ড সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভূখণ্ড নিয়ে দাবি যাই থাকুক না কেন, ধর্মীয় প্রতীক ধ্বংস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটানো উচিত নয়। ভারত উভয় দেশকে সংযম বজায় রাখার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত সীমান্তরেখাকে কেন্দ্র করেই এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। গত জুলাই মাসে পাঁচ দিনের সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়। সর্বশেষ ডিসেম্বরে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব।
বুধবার থেকে উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তারা আবারও যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনায় বসেছেন। এরই মধ্যে বিষ্ণু মূর্তি ধ্বংসের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবতারা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে যুগ যুগ ধরে শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রতীক। তাই সংঘাত ও সহিংসতার পথ পরিহার করে পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news