প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬
গাইবান্ধায় দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ: শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ বিগ্রহের ৩৩ শতাংশ জমি উদ্ধারে আদালতের দ্বারস্থ হিন্দু সমাজ
||
গাইবান্ধা জেলায় দেবোত্তর সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের একটি বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ বিগ্রহের নামে দান করা প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জবরদখল করে ভোগদখল করছেন। এ বিষয়ে জমি উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয় হিন্দু সমাজ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিএস খতিয়ানে উক্ত জমির মালিক ছিলেন চিত্রা দাসী। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিক হন তার দুই ছেলে মোহন চাঁদ বর্মন ও মহেশ চন্দ্র বর্মন। পরবর্তীতে মহেশ চন্দ্র বর্মন তার প্রাপ্ত অংশের মধ্য থেকে ১৯৫৯ সালে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ৩৩ শতাংশ জমি শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ বিগ্রহের নামে দান করেন। ওই জমির সেবায়েত নিযুক্ত হন নিরাশা রাম বর্মন। দলিল নম্বর ৪৬৬ অনুযায়ী এই দান কার্যকর হয়।
জানা যায়, সেবায়েত নিরাশা রাম বর্মন ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ওই জমির উৎপাদিত ফসল দিয়ে নিয়মিতভাবে বিগ্রহের সেবা, পূজা ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তবে ১৯৬৮ সালে তিনি ভারতে চলে গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে ভারতের দিক থেকে আগত কিছু ব্যক্তি নিরাশা রাম বর্মনের নিজস্ব জমির সঙ্গে বিগ্রহের দানকৃত ৩৩ শতাংশ জমিও জবরদখল করে চাষাবাদ শুরু করেন।পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশের অস্থির পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতির কারণে স্থানীয় হিন্দু সমাজ ওই জমি উদ্ধার করতে পারেননি। স্বাধীনতার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মন্দিরের জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তখন দখলকারীরা দাবি করেন, তারা নাকি নিরাশা রাম বর্মনের জমির সঙ্গে বিগ্রহের জমিও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বন্দোবস্ত বা লিজ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে দেবোত্তর সম্পত্তির দলিলসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানানো হলে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, মোট চারটি বৈঠকের পর চেয়ারম্যান জানান যে ১৯৯০ সালের আরএস রেকর্ডে উক্ত জমি বাহাজ উদ্দিন ও আনছার আলীর নামে নথিভুক্ত হওয়ায় আদালতের ডিক্রি ছাড়া প্রশাসনিকভাবে জমি উদ্ধার সম্ভব নয়। ফলে হিন্দু সমাজ আদালতের দ্বারস্থ হয়।জমির নথিপত্র অনুযায়ী, সিএস খতিয়ান নম্বর ৫৬৮ এবং এসএ খতিয়ান নম্বর ৬০৩-এ মহেশ চন্দ্র বর্মনের নামে দাগ নম্বর ১৫২০-এ মোট ১১৩ শতক জমি রেকর্ড ছিল, যার মধ্য থেকে ৩৩ শতাংশ জমি দেবোত্তর হিসেবে দান করা হয়। তবে পরবর্তীতে আরএস খতিয়ান নম্বর ১৫৮-এ দাগ নম্বর ২৩১৫-এ বাহাজ উদ্দিন ও আনছার আলীর নামে ২৯ শতাংশ জমি রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয়দের মতে কারসাজির মাধ্যমে করা হয়েছে। একইসঙ্গে দাতার ওয়ারিশদের নামে ভুলবশত ৪ শতাংশ জমি আরএস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায়।এদিকে মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে জবাব দাখিল করে বিবাদীপক্ষ দাবি করেছে, দাতার ওয়ারিশদের নামে থাকা ৪ শতাংশ জমি তারা দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে সোলেনামার মাধ্যমে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে পুরো ৩৩ শতাংশ জমিই দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে চাষাবাদ করা হচ্ছে।এ ঘটনার প্রতিবাদ ও মামলা পরিচালনার কারণে মন্দির কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির বাইরে বের হলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।বর্তমানে বিষয়টি গাইবান্ধা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সমাজ ও মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচার এবং শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ বিগ্রহের দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার করে ধর্মীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news