প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬
অসুর জীবন ও ভক্ত জীবন: শাস্ত্রের আলোকে চিরন্তন শিক্ষা
চিরনজিত চন্দ্র বাইন(ভোলা জেলা প্রতিনিধি), স্টাফ রিপোর্টার ||
ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, মানবজীবনের প্রকৃত লক্ষ্য ভোগ-বিলাস নয়, বরং ভগবৎপ্রেম ও আত্মশুদ্ধি। ভগবদ্গীতা-য় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে জানান—যখনই ধর্মের অধঃপতন ও অধর্মের উত্থান ঘটে, তখন তিনি অবতীর্ণ হয়ে সাধুদের রক্ষা এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করেন।এই নীতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় সত্যযুগে। তখন ভগবান নৃসিংহদেব রূপে আবির্ভূত হয়ে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু-কে বধ করেন এবং তাঁর ভক্তপুত্র প্রহ্লাদ মহারাজ-কে রক্ষা করেন।শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, হিরণ্যকশিপু কঠোর তপস্যার মাধ্যমে ব্রহ্মা-র কাছ থেকে বিরল বর লাভ করে অপরাজেয় শক্তিধর হয়ে ওঠে। সে দেবতাদের পরাভূত করে স্বর্গরাজ্য দখল করে নেয় এবং নিজেকে সর্বশক্তিমান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। তবুও, অপরিমেয় ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার অধিকারী হয়েও সে শান্তি লাভ করতে পারেনি। কারণ তার জীবন ছিল ইন্দ্রিয়ভোগ ও অহংকারে পরিপূর্ণ—যা শাস্ত্রমতে ‘অসুর জীবন’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।অন্যদিকে, প্রহ্লাদ মহারাজ ছিলেন ভক্ত জীবনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পিতার চরম অত্যাচারের মধ্যেও তিনি সর্বদা ভগবান বিষ্ণু-র নাম স্মরণ করতেন। তিনি শিখিয়েছেন—ইন্দ্রিয়কে ভগবানের সেবায় নিয়োজিত করাই প্রকৃত ভক্তি।ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়, অসুর জীবন মানুষকে অস্থায়ী ভোগের দিকে ঠেলে দেয়, যেখানে স্থায়ী সুখের অভাব থাকে। বিপরীতে, ভক্ত জীবন আত্মসমর্পণ, সেবা ও ঈশ্বরচিন্তার মাধ্যমে চিরশান্তি এনে দেয়।বর্তমান কলিযুগে ভক্তির সহজ পথ হিসেবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হরিনাম সংকীর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শাস্ত্র অনুযায়ী, “হরের্নাম”ই এই যুগে মুক্তির প্রধান উপায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সমাজে ভোগবাদ ও স্বার্থপরতার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ ক্রমশ অন্তর্দ্বন্দ্ব ও অশান্তিতে ভুগছে। এই প্রেক্ষাপটে শাস্ত্রের ভক্তি-আদর্শ মানবজীবনে শান্তি ও কল্যাণের পথ প্রদর্শন করতে পারে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news