প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬
জলের তলে ভক্তি, তীরের ওপর উৎসব: সিন্দুরমতির নবমী স্নানে জনসমুদ্র
||
চৈত্রের শুক্লপক্ষের পুণ্যতিথি। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের প্রথম আভা ফুটে ওঠার আগেই হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত সিন্দুরমতি দিঘীর চারপাশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। উত্তর জনপদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এই তীর্থক্ষেত্রে ভোরের কুয়াশাভেজা আলোয় শুরু হয় ঐতিহাসিক নবমী স্নান। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোর হাজার হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে সিন্দুরমতি এলাকা এখন এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।ব্রাহ্ম মুহূর্ত থেকেই শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে দিঘীর চারপাশ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা হাতে ফুল, বেলপাতা, ধূপ আর তিল নিয়ে দিঘীর শীতল জলে অবগাহন করেন। পাপ মোচন আর মনস্কামনা পূরণের এক গভীর বিশ্বাস নিয়ে কেউ সপরিবারে, কেউ বা একাকী এই তীর্থস্নানে অংশ নিতে আসেন। দিঘীর পাড়ে পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ আর ভক্তদের ভক্তিপূর্ণ পদচারণায় এক অপার্থিব পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, জমিদার আমলের সেই কিংবদন্তি সিন্দুর ও মতির আত্মত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত এই দিঘীটি আজ শুধু একটি জলাশয় নয়, বরং এই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এক পবিত্র অস্তিত্ব।
জলের ভেতরের এই আধ্যাত্মিকতার সমান্তরালে দিঘীর বিশাল পাড়জুড়ে বসেছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা। মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশ ও বেতের শিল্পকর্ম, কাঁচের চুড়ি থেকে শুরু করে লোকজ খাবারের ম ম গন্ধে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে মাইলের পর মাইল। নাগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ আর শিশুদের কোলাহলে মেলা প্রাঙ্গণ এখন প্রাণবন্ত। এই মেলা কেবল কেনাবেচার মাধ্যম নয়, বরং বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের পুনর্মিলনের এক সেতুবন্ধন হিসেবে গণ্য হয়।তীর্থস্নান ও মেলা পরিদর্শনে এসে সরকারের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এই জনপদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, সিন্দুরমতি দিঘী এই অঞ্চলের মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের এক সুপ্রাচীন কেন্দ্র। এই ঐতিহাসিক স্থানটির মহিমা অক্ষুণ্ণ রেখে একে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং এই পবিত্র ভূমিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।বিকেলের তপ্ত রোদ কিছুটা ম্লান হয়ে এলে দিঘীর শান্ত জলে দীর্ঘ ছায়া পড়ে। তবে মানুষের ঢল তখনও কমেনি। বিশ্বাস আর সংস্কৃতির এই মহামিলন প্রমাণ করে যে, কালজয়ী ঐতিহ্যগুলো আজও এদেশের মানুষের হৃদয়ে কত গভীরে প্রোথিত। দিনের শেষে বাড়ি ফেরা মানুষের চোখেমুখে এক অনাবিল প্রশান্তি দেখা যায়, যা সিন্দুরমতির জল ও মাটির প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news