প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
বর্তমান পোশাকে অসন্তুষ্ট বাহিনী: পুলিশের ইউনিফর্মে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
||
বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবময় অতীত ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বাহিনীর পোশাকে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সন্তুষ্ট নন এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সরকার দ্রুতই কোনো একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে।ঐতিহাসিক সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লাঠিবাহিনী নয়, বরং তারা হবে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সকল ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ যেন ভয়ের বদলে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অপরাধীর মনে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং নিরপরাধ মানুষের মনে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন ধারার এই পুলিশ বাহিনীর মূল মন্ত্র।পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের অংশ হিসেবে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে একমাত্র ‘মেধা’কে মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব করতে আইন সংস্কারের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুলিশের মনোবল চাঙ্গা করতে জনবল বৃদ্ধিসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।এদিন ৪৩তম বিসিএস ব্যাচের মোট ৭২ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশসেবার শপথ নেন, যার মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহমেদ সাদমান সাকিব। প্রশিক্ষণে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট একাডেমিক’ ক্যাটাগরিতে দ্বৈত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন মো. ফাহিম ফয়সাল। এছাড়া ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজে মো. আরাফাত হোসেন এবং হর্সম্যানশিপে শাওন রেজা শ্রেষ্ঠত্ব দেখান। বিশেষ করে বেস্ট শ্যুটার হিসেবে গৌরব অর্জন করেন বাপী কুমার দাশ, যা নবীন কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে মন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষের জানমালের সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news