প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
ভক্তির শক্তিতে মানসিক প্রশান্তি ও জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন: হনুমান চালিশা পাঠের গুরুত্ব
সৌরভ সাহা (রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ), স্টাফ রিপোর্টার ||
ভক্তি, আস্থা ও আধ্যাত্মিক চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে হনুমান চালিশা পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ভগবান হনুমান-এর প্রতি ভক্তি নিবেদন করে এই স্তোত্র পাঠ করলে জীবনে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে বলে বিশ্বাস করেন ভক্তরা।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করলে মানুষ অশুভ শক্তি, নেতিবাচক প্রভাব ও ভয় থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। ভক্তদের মতে, এটি একধরনের আধ্যাত্মিক ঢাল হিসেবে কাজ করে, যা জীবনে সুরক্ষা ও মানসিক শক্তি জোগায়। অনেকেই মনে করেন, এই পাঠের মাধ্যমে ভগবান হনুমানের আশীর্বাদ লাভ করা যায়, যা সাহস, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক।এছাড়াও জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূরীকরণে হনুমান চালিশা পাঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা পেশাগত জীবনের সংকট মোকাবিলায় এটি মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করে। ফলে একজন ব্যক্তি নিজের প্রচেষ্টায় সফলতার পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হন।স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও এর প্রভাব নিয়ে নানা মতামত রয়েছে। অনেক ভক্ত বিশ্বাস করেন, নিয়মিত চালিশা পাঠ মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়, যা শারীরিক সুস্থতাকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। মানসিক চাপ কমে গেলে শরীরও সুস্থ থাকে—এমন ধারণা থেকেই এই বিশ্বাসের উৎপত্তি।
হনুমান চালিশা (পূর্ণ পাঠ):জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর।জয় কপিস তিহু লোক উজাগর ॥ ১ ॥রাম দূত অতুলিত বল ধামা।অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা ॥ ২ ॥মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী ॥ ৩ ॥কাঞ্চন বরণ বিরাজ সুবেশা।কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা ॥ ৪ ॥হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ।কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে ॥ ৫ ॥শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন।তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন ॥ ৬ ॥বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর।রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥ ৭ ॥প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া।রামলখন সীতা মন বসিয়া ॥ ৮ ॥সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা।বিকট রূপধরি লঙ্ক জরাবা ॥ ৯ ॥ভীম রূপধরি অসুর সংহারে।রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে ॥ ১০ ॥লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে।শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে ॥ ১১ ॥রঘুপতি কীন্হী বহুত বড়াই।তুম মম প্রিয় ভরত সম ভাই ॥ ১২ ॥সহস্র বদন তুম্হরো যশ গাবৈ।অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লাগাবৈ ॥ ১৩ ॥সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা।নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥ ১৪ ॥যম কুবের দিগপাল যেখানে।কবি কোবিদ কহি सके কোথা ॥ ১৫ ॥তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা।রাম মিলায় রাজপদ দীনহা ॥ ১৬ ॥তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা।লঙ্কেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা ॥ ১৭ ॥যুগ সহস্র যোজন পর ভানু।লীল্যো তাহি মধুর ফল জানু ॥ ১৮ ॥প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী।জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী ॥ ১৯ ॥দুর্গম কাজ জগত কে জেতে।সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে ॥ ২০ ॥রাম দুয়ারে তুম রখবারে।হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥ ২১ ॥সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা।তুম রক্ষক কাহু কো ডরনা ॥ ২২ ॥আপন তেজ সম্হারো আপৈ।তিনো লোক হাংক তে কাঁপৈ ॥ ২৩ ॥ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ।মহাবীর যখন নাম সুনাবৈ ॥ ২৪ ॥নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা।জপত নিরন্তর হনুমত বীরা ॥ ২৫ ॥সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ।মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ ॥ ২৬ ॥সব পর রাম তপস্বী রাজা।তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥ ২৭ ॥ঔর মনোরথ জো কেউ লাবৈ।সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥ ২৮ ॥চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা।হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ॥ ২৯ ॥সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।অসুর নিকন্দন রাম দুলারে ॥ ৩০ ॥অষ্টসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা।অস বর দীন জানকী মাতা ॥ ৩১ ॥রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা।সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥ ৩২ ॥তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ।জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ ॥ ৩৩ ॥অন্তকাল রঘুপতি পুরযায়ী।যহাঁ জন্ম হরিভক্ত কহায়ী ॥ ৩৪ ॥ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে।হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে ॥ ৩৫ ॥সংকট কাটে মিটে সব পীরা।যো সুমিরে হনুমত বলবীরা ॥ ৩৬ ॥জয় জয় জয় হনুমান গোসাঁই।কৃপা করহু গুরুদেব কি নায়ী ॥ ৩৭ ॥যো শত বার পাঠ কর কোয়ী।ছুটহি বন্দী মহা সুখ হোয়ী ॥ ৩৮ ॥যো ইহ পড়ে হনুমান চালিশা।হোয় সিদ্ধি সাক্ষী গৌরীশা ॥ ৩৯ ॥তুলসীদাস সদা হরি চেরা।কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥ ৪০ ॥আধ্যাত্মিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও হনুমান চালিশার গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, এই স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে ভক্তরা ঈশ্বরের সঙ্গে এক গভীর সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। এর ফলে নেতিবাচক চিন্তা ও আবেগ দূর হয়ে জীবনে ভক্তি, নম্রতা, কৃতজ্ঞতা ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে।রাতে হনুমান চালিশা পাঠ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন থাকলেও ধর্মীয় গ্রন্থ বা প্রচলিত বিশ্বাসে এর কোনো নেতিবাচক দিক উল্লেখ পাওয়া যায় না। যদিও সকাল ও সন্ধ্যাকে পাঠের জন্য সর্বোত্তম সময় হিসেবে ধরা হয়, তবুও ভক্তি ও আন্তরিকতা থাকলে রাতেও এটি পাঠ করা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।সার্বিকভাবে, হনুমান চালিশা কেবল একটি স্তোত্র নয়, বরং এটি ভক্তদের জন্য এক আধ্যাত্মিক শক্তির উৎস। বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠ করলে এটি জীবনে শান্তি, সাহস, ইতিবাচকতা ও সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে বলে মনে করেন ধর্মপ্রাণ মানুষরা।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news