প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
শান্তিনিকেতনে এবার নাগরিকত্ব হারালেন নন্দলাল বসুর পরিবার
||
ওপার বাংলার মাটিতে এক চরম অবমাননাকর ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল শান্তিনিকেতন। যে মহাপ্রাণের তুলির টানে ভারতের সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপি অনন্য শিল্পমন্ডিত রূপ পেয়েছিল, সেই আচার্য নন্দলাল বসুর উত্তরসূরিদেরই এবার ভারতের নাগরিকত্বের প্রাথমিক অধিকার তথা ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের চলমান ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে এই নক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগে মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারকেও একইভাবে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার খবর সামনে এসেছিল, যা নিয়ে বর্তমানে ওপার বাংলায় ক্ষোভ ও বিতর্কের দাবানল জ্বলছে।বিশ্বভারতীর পুণ্যভূমি শান্তিনিকেতনে দীর্ঘদিনের স্থায়ী বাসিন্দা নন্দলাল বসুর নাতি ৮৮ বছর বয়সী সুপ্রবুদ্ধ সেন। জানা গেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম তো নেই-ই, সেই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী দীপা সেন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের গৃহসহায়কের নামও গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন দপ্তরের কর্মকর্তারা যখন যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য তাঁদের বাড়িতে যান, তখন সুপ্রবুদ্ধ বাবু নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের শংসাপত্র, পরিচয়পত্রসহ যাবতীয় বৈধ নথি উপস্থাপন করেছিলেন। তা সত্ত্বেও কোনো প্রকার লিখিত কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এই প্রবীণ নাগরিক ও প্রথিতযশা পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং ভারতের সনাতন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর এক চরম আঘাত হিসেবে দেখছেন শান্তিনিকেতনের বুদ্ধিজীবী মহল। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদে নন্দলাল বসুর পরিবারের প্রতি এমন অবজ্ঞা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। ইতিপূর্বেও মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের প্রায় ৩০০ সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই হিন্দুস্তানি সংস্কৃতির অন্যতম আইকন নন্দলাল বসুর পরিবারের প্রতি এই আচরণ এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলোকে সুকৌশলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের মনেও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। যে শিল্পী ভারতের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও ঐতিহ্যের ছবি সংবিধানে এঁকেছিলেন, তাঁরই উত্তরসূরিদের নিজ দেশে ‘পরিচয়হীন’ করে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা হিন্দুস্তানি গৌরবের ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ক্রমবর্ধমান এই জনরোষের মুখে নির্বাচন কমিশন তাঁদের ভুল সংশোধন করে এই ঐতিহাসিক পরিবারের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করে কি না।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news