প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রবাসফেরত স্বামীর চক্রান্তে ৫২ ঘণ্টা ধরে ঘরের বাইরে স্মৃতি রানী
||
আগ্রাবাদের এক গৃহবধূর হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের বাতাস। পৈতৃক ভিটা কিংবা স্বামীর ঘর—নারীর প্রকৃত আশ্রয় কোথায়, সেই চিরাচরিত অমীমাংসিত প্রশ্নটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছেন স্মৃতি রানী সরকার। দশ বছরের দাম্পত্য জীবনের চড়া মাশুল হিসেবে বর্তমানে তার কপালে জুটেছে কেবল অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং নিজ সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অসহ্য যন্ত্রণা।স্মৃতি রানী সরকারের বিয়ে হয়েছিল এক দশক আগে অভিজিৎ রায়ের সঙ্গে। বর্তমানে অভিজিৎ ইউরোপপ্রবাসী হলেও প্রবাসে যাওয়ার আগে থেকেই স্মৃতির ওপর চলত অকথ্য নির্যাতন। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশের মাটিতে থিতু হওয়ার পর থেকেই অভিজিৎ তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। তবে স্মৃতি তার সংসার টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় শুরু হয় অন্য এক চক্রান্ত। স্বামীর প্ররোচনায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্মৃতির ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, স্মৃতিকে ঘরছাড়া করার পাশাপাশি তার কোল থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার একমাত্র কন্যাসন্তানকে। নিজের অধিকার ফিরে পেতে এবং সন্তানের সান্নিধ্য পেতে স্মৃতি গত ৫২ ঘণ্টা ধরে শ্বশুরবাড়ির সামনে আমরণ অবস্থান গ্রহণ করেন। খোলা আকাশের নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও মন গলেনি পাষণ্ড শ্বশুরবাড়ির লোকদের। উল্টো ঔষধ ব্যবসায়ী শ্বশুর প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় যারা স্মৃতিকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন, তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা দেবর—কারও কাছেই কোনো সদুত্তর পাননি এই অসহায় নারী। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনি যেন নিজের ব্যবস্থা নিজেই করে নেন। স্মৃতির এই আর্তনাদ কেবল একটি পারিবারিক কলহ নয়, বরং এটি আমাদের সমাজব্যবস্থায় নারীর ভঙ্গুর অবস্থানের এক জলজ্যান্ত প্রতিচ্ছবি। একজন নারী সারাজীবন সর্বস্ব দিয়ে সংসার আগলে রাখলেও দিনশেষে তাকে এমন নির্মম পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।আগ্রাবাদের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সনাতনী নারীদের কেবল শাস্ত্রীয় জ্ঞানে নয়, বরং আধুনিক শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বলীয়ান হওয়া কতটা জরুরি। কারো দয়ার পাত্রী হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার শক্তি অর্জনই এখন সময়ের দাবি। স্মৃতি রানী সরকার এখনো চান তার হারানো সংসার ও সন্তানকে ফিরে পেতে, কিন্তু অপরপক্ষ যেখানে তাকে নিঃস্ব করতে বদ্ধপরিকর, সেখানে স্মৃতির ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী জুটবে, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সামাজিক সজাগ দৃষ্টিই পারে এই অসহায় মাকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news